নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে তিনি দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস প্রস্তুত, ঘূর্ণিঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা প্রদান এবং জরুরি আবহাওয়া তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাঁকে আবহাওয়া পূর্বাভাস তৈরির বিভিন্ন ধাপ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি তুলে ধরেন।

এ সময় ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, নির্ভুল আবহাওয়া পূর্বাভাস শুধু একটি বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়। এটি মানুষের জীবন রক্ষা, কৃষি উৎপাদন, নদী ও সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচল, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশের অর্থনীতি সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আবহাওয়া অধিদপ্তরকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। পূর্বাভাসের মান উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন সতর্কবার্তার অর্থ সহজে বুঝতে পারে, সে বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি এবং মোবাইলভিত্তিক সতর্কবার্তা সেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করার নির্দেশনা দেন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া সেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

উপদেষ্টা আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগ- ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র, পূর্বাভাস, কৃষি আবহাওয়া, জলবায়ু, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণাগার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়ার্কশপ ও গবেষণাগার ঘুরে দেখেন। তিনি দায়িত্ব পালনরত আবহাওয়াবিদ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য ভাষায় আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)-এর চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালকসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। বাসস

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.