অন্তর্ভুক্তিমূলক বিমা উদ্যোগ ‘গার্ডিয়ান ব্র্যাক বিমা’র মাধ্যমে ১ কোটি ২২ লাখ মানুষের বিমা সুরক্ষা নিশ্চিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬-এ ‘মোস্ট সাসটেইনেবল ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অব দ্য ইয়ার–ইন্স্যুরেন্স’ বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।
রোববার (১৯ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ এ আয়োজন করে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা উদ্যোগগুলোকে এ পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
গার্ডিয়ান লাইফ ও ব্র্যাকের অংশীদারিত্বে ২০১৫ সালে ‘গার্ডিয়ান ব্র্যাক বিমা’ চালু হয়। ব্র্যাকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে বিমা সুরক্ষাকে যুক্ত করে গড়ে তোলা এ উদ্যোগ বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলায় ব্র্যাকের প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় রয়েছেন প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ মানুষ, যার মধ্যে ব্র্যাকের ঋণগ্রহীতা এবং তাদের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী অন্তর্ভুক্ত। সুবিধাভোগীদের বড় অংশই স্বল্প আয়ের নারী।
উদ্যোগটির মাধ্যমে বিমার আওতাভুক্ত ঋণের দায় পরিশোধ করে সুবিধাভোগী পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমানো হয়। ফলে পরিবারের সদস্যদের উত্তরাধিকারসূত্রে ঋণের অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হয় না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গার্ডিয়ান ব্র্যাক বিমার আওতায় ৩৯ হাজার ২৪৩টি দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ২৪১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কোটি টাকার দাবি পরিশোধ করা হয়েছে।
গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রকিবুল করিম বলেন, ‘গার্ডিয়ান ব্র্যাক বিমার মাধ্যমে যেসব পরিবারের ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ হয়েছে, এই স্বীকৃতি তাদের সবার। স্বল্প আয়ের একটি পরিবারের জন্য প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার সঙ্গে আর্থিক অনিশ্চয়তাও বড় সংকট হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমরা কঠিন এ সময়ে কোনো পরিবারকে যেন ঋণের অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই ব্র্যাকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও দেশের আরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে অর্থবহ বিমা সুরক্ষা পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সংস্থাটি জানায়, গার্ডিয়ান ব্র্যাক বিমা সরাসরি এসডিজি-১ (দারিদ্র্য বিমোচন), এসডিজি-৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ), এসডিজি-৫ (লিঙ্গ সমতা), এসডিজি-১১ (টেকসই নগর ও জনপদ) এবং এসডিজি-১৭ (লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব) অর্জনে অবদান রাখছে।
এবারের এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডসের জন্য ১৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪৭২টি মনোনয়ন জমা পড়ে। সাতটি গ্র্যান্ড জুরি প্যানেলে ২৭ জন বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ৫৯টি উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.