যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ায় বাড়ছে নগদ অর্থের ব্যবহার

ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার অর্থনীতি অনেকটাই বদলে গেছে। দেশটিতে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ফলে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপে ব্যবসায়ীরাও কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে রাশিয়ানরা আবার নগদ অর্থ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।

রোববার (১৯ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, রাশিয়া চলতি বছরের শুরু থেকে ১ দশমিক ৫৬ ট্রিলিয়ন রুবল, অর্থাৎ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের মুদ্রা ছাপিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাদ দিলে, এটি যেকোনো বছরের একই সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা জোরদারের মধ্যে এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে ক্রেমলিনকে বারবার দেশের বিশাল অংশজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন না। সরকার বলছে, ড্রোন হামলা মোকাবেলার উদ্দেশ্যেই এই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে।

মস্কোর এক বাসিন্দা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাতে নগদ টাকা থাকলে এক ধরনের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাবোধ কাজ করে। কারণ শহরে কোনো জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারবেন।

অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপত্তার জন্য নগদ অর্থ উত্তোলনের এমন প্রবণতা এর আগেও রুশদের মধ্যে কয়েকবার দেখা গেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আংশিক সৈন্য সমাবেশের ঘোষণার পর এবং ২০২৩ সালের জুনে ওয়াগনার ভাড়াটে গোষ্ঠীর বিদ্রোহ চলাকালে বাজারে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল।

বর্তমানে এমন পরিস্থিতিতে কর আদায় কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে। যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য দেশটির বিপুল অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

গত মে মাসে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ০ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এর ফলে দেশটি ২০২২ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে।

রাজস্ব বাড়াতে ক্রেমলিন জানুয়ারিতে ভ্যাট ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২২ শতাংশ করেছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভ্যাট প্রদানের সীমা কমিয়ে দিয়েছে। এতে আগে থেকেই সংকটে থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

রাশিয়ার বৃহত্তম ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান স্বেরব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা তারাস স্কভোরতসভ বলেন, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গোপনে ‘খামে করে’ বেতন পরিশোধ করছে। এটি অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুতর লক্ষণ।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের বরাতে স্কভোরতসভ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি মুহূর্ত। আমরা ক্যাশ কালেকশন, এটিএম বা সেলফ-সার্ভিস টার্মিনালের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নগদ অর্থ ফিরতে দেখছি না। এটি মানুষের হাতেই থেকে যাচ্ছে।’

রাশিয়ার বৃহত্তম এসএমই সংগঠন ‘ওপোরা রাশিয়া’র মে মাসের এক সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৬ শতাংশ উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, নতুন করের বোঝা সামলাতে তারা নগদ অর্থ গ্রহণ এড়িয়ে চলার মতো ‘কূটকৌশলের’ আশ্রয় নিয়েছেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.