রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর হোটেল লেকশোরে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (জেবিসিসিআই) ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৪০ জন অতিথি—যার মধ্যে জেবিসিসিআই-এর সাধারণ সদস্য, বোর্ড সদস্য, বিশিষ্ট অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেবিসিসিআই-এর নির্বাহী পরিচালক তাহেরা আহসান।
জেবিসিসিআই-এর সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন) স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে জেবিসিসিআই-এর ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থা ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়টিতে আলোকপাত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জেবিসিসিআই উভয় দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে।
তিনি জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং এর সময়মতো অনুমোদন, কার্যকর বাস্তবায়ন ও এই চুক্তির সুযোগগুলো পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য ব্যবসায়িক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া তিনি একটি পূর্বাভাসযোগ্য ও বিনিয়োগ-বান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ, ধারাবাহিক নীতি-সহায়তা কার্যক্রম (পলিসি অ্যাডভোকেসি), শক্তিশালী ব্যবসায়িক সংযোগ এবং ব্যবসায় নারীদের অধিক অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়িত বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সেগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) বাস্তবায়নে সহায়তা, নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, ‘জাপান-বাংলাদেশ বিজনেস উইমেন কনফারেন্স’, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং খাত-ভিত্তিক অন্যান্য উদ্যোগে চেম্বারের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা হিসেবে তিনি ইপিএ (EPA)-এর জন্য প্রস্তুতি, বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধান, খাত-ভিত্তিক ব্যবসায়িক সংযোগ (business matching), নিয়মিত জাপানি প্রতিনিধিদলের সফর আয়োজন, সদস্যদের অধিকতর সম্পৃক্ততা এবং নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ ব্যবসায়ী নেতাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
জেবিসিসিআই-এর যুগ্ম-কোষাধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার সিপিএ (CPA) নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এবং আর্থিক খাতের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
বোর্ড সদস্যরা ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য নিরীক্ষক হিসেবে “শফিক মিজান রহমান অ্যান্ড অগাস্টিন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস”-কে নিয়োগের প্রস্তাব করেন।
অংশগ্রহণকারীরা নভেম্বর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়কালে জেবিসিসিআই কর্তৃক আয়োজিত সেমিনার, জাপানি প্রতিনিধিদলের সফর, সদস্যদের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর, গোলটেবিল বৈঠক, নেটওয়ার্কিং এবং বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি ও অন্যান্য সংস্থার সাথে বৈঠকের মতো উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অংশগ্রহণ করেন। এরপর, জেবিসিসিআই (JBCCI)-এর নির্বাচন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এজেডএম আজিজুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জেবিসিসিআই-এর নতুন পরিচালনা পর্ষদকে (অক্টোবর ২০২৬-সেপ্টেম্বর ২০২৮ মেয়াদের জন্য) পরিচয় করিয়ে দেন; এই পর্ষদ সদস্যরা গত ২৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সবশেষে, তিনি মানাবু সুগাওয়ারা এবং আব্দুল হককে পরিচয় করিয়ে দেন, যাদেরকে পর্ষদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন পর্ষদ সদস্যদের নাম নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রম | নাম | পদবী |
| ০১ | কাজুইকি কাতাওকা | সভাপতি |
| ০২ | আবু জামান মো. তারিকুল ইসলাম | সহ-সভাপতি ১ |
| ০৩ | সৈয়দ সামিউল হক | সহ-সভাপতি ২ |
| ০৪ | রবিউল আলম | মহাসচিব |
| ০৫ | কেনজি কিমুরা | কোষাধ্যক্ষ |
| ০৬ | অলিভার কুটজ | যুগ্ম মহাসচিব |
| ০৭ | সৌমিত্র কুমার মুৎসুদ্দী | যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ |
| ০৮ | তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন) | পরিচালক |
| ০৯ | হিরোয়াকি ওউরা | পরিচালক |
| ১০ | কবির আহমেদ | পরিচালক |
| ১১ | আৎসুশি হিরাকুরি | পরিচালক |
| ১২ | একেইএম আহমেদুল ইসলাম বাবু | পরিচালক |
| ১৩ | কেনইচিরো কাওয়ামোতো | পরিচালক |
| ১৪ | ফারজানা চৌধুরী | পরিচালক |
| ১৫ | হিরোনোরি ইয়ামানাকা | পরিচালক |
| ১৬ | মুদাসসির মুর্তজা মঈন | পরিচালক |



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.