বন্ড সুবিধায় আনা ১৩ লাখ কেজির বেশি কাঁচামালের হদিস পায়নি কাস্টমস গোয়েন্দা

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত আমদানি করা জ্যাস অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৩৫ হাজার কেজির বেশি বিভিন্ন প্লাস্টিকের কাঁচামালের হদিস পায়নি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত বন্ডেড অ্যাক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান জ্যাস অ্যাকসেসরিজ বিডি লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে অনলাইন নথিতে থাকা মজুতের সঙ্গে বাস্তব মজুতের বড় ধরনের এমন অসংগতি পেয়েছে সংস্থাটি।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী না পাওয়া কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। যেখানে শুল্ক-কর প্রযোজ্য ৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। গত ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর কর্নেল জোন্স রোডে অভিযান পরিচালনা করে এমন সত্যতা পাওয়া গেছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর জানায়, জ্যাস অ্যাকসেসরিজ বিডি লিমিটেড বন্ডেড সুবিধার আওতায় এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে। পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ইউপি বা কাঁচামাল ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে বাস্তবে থাকা কাঁচামালের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা হয়। এতে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে। নথিপত্র অনুযায়ী, অনলাইন ইউপির হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির বন্ডেড ওয়্যারহাউসে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা। কিন্তু সরেজমিনে পাওয়া গেছে মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি। অর্থাৎ নথিতে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায়নি ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল। পরিমাণের হিসাবে ঘাটতি প্রায় ১৩ দশমিক ৩৫ লাখ কেজি।

সর্বশেষ আমদানির বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুসারে, অনুপস্থিত কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা। এসব কাঁচামালের বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।

বন্ড সুবিধার আওতায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্তে শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি করতে পারে। তবে এসব কাঁচামাল অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব ও নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু জ্যাস অ্যাকসেসরিজ গুদামে নথি অনুযায়ী কাঁচামাল না পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.