চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিদায়ী অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) তাদের ওয়েবসাইটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য প্রকাশ করেছে।
আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ অভ্যুত্থান-পরবর্তী নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও আগের অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় বেশি ছিল।
বিদায়ী অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি টাকা। ফলে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদায়ী অর্থবছরে নির্বাচনসহ নানা অনিশ্চয়তার কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে যায়। পাশাপাশি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করে বাস্তবায়নের নীতিও অনুসরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও কম বাস্তবায়নের অন্যতম কারণ।
আগের বছরের তুলনায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কম ব্যয়
বিদায়ী অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কম ব্যয় হয়েছে। টানা তিন অর্থবছর ধরে এডিপিতে ব্যয় কমছে।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এডিপিতে ব্যয় হয়েছিল ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যয় আরও কমে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়ন হার সাধারণত ৮০ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে ছিল। তবে সর্বশেষ দুই অর্থবছরে তা ৭০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
সবচেয়ে কম বাস্তবায়ন সংসদ সচিবালয়ের
গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে খারাপ করেছে সংসদ সচিবালয়। একটি প্রকল্পের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও পুরো বছরে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। এতে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
সবচেয়ে কম বাস্তবায়নকারী পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ), অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ), নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (২৯ দশমিক ৯০ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ)।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.