ইন্দোনেশিয়ার নৌবহরে প্রথম বিমানবাহী রণতরী

বিশ্বের বৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীতে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে একটি বিমানবাহী রণতরী। প্রায় ৪১ বছর পুরোনো এই রণতরীটি ইতালির কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছে দেশটি। এর আগে রণতরীটি ইতালির নৌবাহিনীতে ব্যবহৃত হতো।

ইন্দোনেশিয়ার দাবি, নতুন এই রণতরী তাদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে।

ইতালির নৌবাহিনীতে রণতরীটি আইটিএস জিউসেপ্পে গারিবালদি নামে পরিচিত ছিল। এতে অল্প জায়গা ব্যবহার করে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করতে পারে। পাশাপাশি বিমান ও হেলিকপ্টার অবতরণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রণতরীটি ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার তানজুং প্রিয়োক বন্দরের একটি নৌঘাঁটিতে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে সামরিক সম্মান প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চে ইতালি পুরোনো রণতরীটি ইন্দোনেশিয়াকে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই ইতালির এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে।

ইতালি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার কাছে সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়েও আগ্রহ দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে রণতরীটি উপহার দেওয়ায় এটি সরিয়ে ফেলার জন্য ইতালিকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে না।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয় দেশ হিসেবে নৌবহরে বিমানবাহী রণতরী যুক্ত করল। এর আগে ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ড স্পেনের কাছ থেকে একটি বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান কিনেছিল।

আগামী সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বহরে রণতরীটি যুক্ত করা হবে। তখন এর নতুন নাম হবে কেআরআই গাজাহ মাদা।

চতুর্দশ শতকের মাজাপাহিত সাম্রাজ্যের সামরিক নেতা গাজাহ মাদার নাম অনুসারে রণতরীটির নামকরণ করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক নেতা অঞ্চলটির বিভিন্ন দ্বীপকে একত্র করে একটি রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ কারণে দেশটির মানুষের কাছে তিনি ঐতিহাসিকভাবে বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয়।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.