জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে এখনও আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তার এ মন্তব্যের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল।
শনিবার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, তার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযুক্ত একজন যুদ্ধাপরাধী এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই একই মত পোষণ করেন।
নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মামদানি। তবে এখন তিনি বলেছেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এ কারণে তিনি নগর কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন।
মামদানি বলেন, “নিউইয়র্ক সিটিতে আইন আমাকে যা করার অনুমতি দেবে, আমরা সেটাই করব।”
তার এ বক্তব্যের পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মেয়র হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন এবং শহরে ক্রমবর্ধমান ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবিলায় মনোযোগ না দিয়ে মামদানি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শত্রুতা উসকে দিয়ে শুধু শিরোনামে আসতে চাইছেন।
ড্যানন আরও বলেন, এতে কোনো পরিবর্তন হবে না। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং ইসরায়েলের অবস্থান ও দেশটির নাগরিকদের নিরাপত্তার অধিকারের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরবেন।
তিনি আরও দাবি করেন, “যদি কাউকে গ্রেফতার করতেই হয়, তবে তা নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে করা উচিত।”
সম্প্রতি নিউইয়র্কের একটি রেডিও অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, গোপনে তিনি আমেরিকাকে ঘৃণা করেন।”
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.