ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতায় পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহিতায় গুরুত্ব

ব্যাংকিং খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন জোরদার, পরিচালনা পর্ষদের কার্যকর তদারকি, স্বাধীন প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা নিয়োগ এবং সম্পদের গুণগত মান ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি ও অভিজ্ঞ ব্যাংকাররা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘ব্যাংকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: আর্থিক স্থিতিশীলতায় এর প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম। তিনি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক—উভয় পর্যায়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান দুর্বলতা চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।

ড. এজাজুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন শুধু বিধিবিধান পরিপালনের বিষয় নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে ঝুঁকি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। ব্যবসায়িক ইউনিটগুলোকে ঝুঁকির দায়দায়িত্ব নিতে হবে এবং ঝুঁকি কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও তদারকির মাধ্যমে এসব কার্যক্রম যাচাই করতে হবে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. সারওয়ার হোসেন সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও কার্যকর সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক ও পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঋণশৃঙ্খলা ও জবাবদিহি দুর্বল করে এমন মৌলিক প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাগুলোর সমাধান ছাড়া ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।

মূল প্রবন্ধটি যৌথভাবে প্রণয়ন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী, অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (গবেষণা) ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সরকার। প্রবন্ধে ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রাথমিক পর্যায়েই সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে ঋণ লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএমের অধ্যাপক ও পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন ও পরামর্শ) মো. শিহাব উদ্দিন খান।

আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মইন উদ্দিন।

সেমিনারে বিআইবিএম জানায়, দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি তথ্য-প্রমাণভিত্তিক গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলক মতবিনিময় অব্যাহত রাখবে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.