২১টি উদ্যোগকে সম্মাননা দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ড

দেশের আর্থিক প্রযুক্তি খাতে অবদান রাখায় ২১টি উদ্যোগকে সম্মাননা দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে চতুর্থ বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ড ২০২৬। গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এ আয়োজন করা হয়।

মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ১৩টি বিভাগে ১৩টি উদ্যোগ বিজয়ী এবং আটটি উদ্যোগ সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

উদ্ভাবনের মাধ্যমে আর্থিক সেবার মান উন্নয়ন, আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের অগ্রগতিতে অবদান রাখা উদ্যোগগুলোকে সম্মাননা দেওয়াই এ আয়োজনের লক্ষ্য।

এ বছর অ্যাওয়ার্ডের জন্য ২০৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত চারটি গ্র্যান্ড জুরি প্যানেলের মাধ্যমে মনোনয়নগুলো ধাপে ধাপে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিজয়ী এবং সম্মানজনক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত উদ্যোগ নির্বাচন করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের প্রতিষ্ঠাতা শরিফুল ইসলাম বলেন, ফিনটেক উদ্ভাবনের মূল্য নির্ভর করে তা মানুষ ও ব্যবসার জন্য কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তার ওপর। আর্থিক সেবাকে আরও সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করতে কাজ করা দলগুলোর প্রচেষ্টার স্বীকৃতি এই সম্মাননা। তাদের অর্জন মানুষের বাস্তব প্রয়োজন মেটাতে পারে—এমন নতুন ধারণায় বিনিয়োগ বাড়াবে এবং বাংলাদেশের আর্থিক ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দিনের প্রথম ভাগে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গবেষকেরা অংশ নেন।

সামিটে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলা, আরও বেশি মানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় আনা এবং গ্রাহকের আস্থা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ বছরের সামিটে ছিল দুটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন, তিনটি প্যানেল আলোচনা, একটি বিশেষজ্ঞভিত্তিক গভীর আলোচনা, একটি অন্তর্দৃষ্টিমূলক অধিবেশন এবং একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যালোচনা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্রান্সফাই গ্লোবালের প্রধান ব্যাংকিং ও নেটওয়ার্ক কর্মকর্তা নওশাদ হুসেইন এবং জিএক্সব্যাংক, জিএক্সএস ব্যাংক ও গ্র্যাবের আঞ্চলিক পণ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক খুয়ান ইউ লি। নওশাদ হুসেইনের আলোচনায় আঞ্চলিক ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন ও পারস্পরিক সংযোগের বিষয়টি উঠে আসে। অন্যদিকে, খুয়ান ইউ লি গ্রাহকের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ব্যাংক গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অন্যান্য আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং, নগদবিহীন লেনদেন, বিভিন্ন আর্থিক সেবার মধ্যে সংযোগ, নিরাপদ আর্থিক অবকাঠামো এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও তদারকির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ষষ্ঠ এবং বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডের চতুর্থ সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম।

আয়োজনটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল ব্রেইন স্টেশন ২৩। উদ্ভাবন সহযোগী হিসেবে ছিল বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ, আনুষ্ঠানিক বিমান পরিবহন সহযোগী টার্কিশ এয়ারলাইন্স, আতিথেয়তা সহযোগী র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল ঢাকা এবং জনসংযোগ সহযোগী ব্যাকপেজ পিআর।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.