শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর একাধিক শক্তিশালী আফটারশক বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়া। স্থানীয় সময় শনিবার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের আঘাতে বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে একই এলাকায় একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে অবস্থান করছেন অনেক বাসিন্দা।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রাথমিক হিসাবে সিক্কা প্রদেশে তিনজন, মাংগারাইয়ে ছয়জন এবং পূর্ব মাংগারাইয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর ৫টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর হওয়ায় ভূমিকম্পটির কম্পন ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি ছিল। পরে একই এলাকায় ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের সময় মাউমেরে বন্দরের একটি টার্মিনাল ভবনের কংক্রিটের অংশ ধসে পড়ে। আন্তদ্বীপ ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন সিঁড়ির একটি অংশ ভেঙে সাগরে পড়ে যান। এ ছাড়া ঘুমন্ত অবস্থায় ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা।
কম্পনের পর উপকূলীয় এলাকায় সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠে উল্লেখযোগ্য উচ্চতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান। তবে বারবার আফটারশক অনুভূত হওয়ায় অনেকেই এখনো ঘরে ফিরতে সাহস করছেন না।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ও উদ্ধারকাজে সময় লাগায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে বিএনপিবি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.