গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মতিন স্পিনিং মিলস পিএলসিসহ ডিবিএল গ্রুপের সবগুলো পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরকে বস্তুনিষ্ট নয় বলে দাবি করা হয়েছে। মতিন স্পিনিং মিলস পিএলসির কোম্পানি সচিব মো. শাহ আলম মিয়া অর্থসূচককে জানিয়েছেন, এই কোম্পানিসহ ডিবিএল গ্রুপের কারখানাগুলো চালু আছে। আজকেও মতিন স্পিনিং মিলসের উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে।
অর্থসূচককে মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ডিবিএল গ্রুপের সবগুলো পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে বলে যে খবর প্রচারিত হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। আমাদের সবগুলো পোশাক কারখানা সচল রয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের কারণে অন্যান্য শিল্প-কারখানার মতো তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও উৎপাদন কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
গ্রুপটির অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬, বুধবার সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি উপলক্ষে কেবলমাত্র গ্রুপের রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) বিভাগে তিন দিনের একটি সংযুক্ত (ব্রিজ) ছুটি পালিত হচ্ছে। এই ছুটি কর্মীদের অনুরোধের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে এবং মাঝের কর্মদিবসটি পরবর্তী একটি কর্মদিবসে সমন্বয় (কম্পেনসেট) করা হবে, ফলে নির্ধারিত উৎপাদনে কোনো ঘাটতি হবে না।
এই ছুটি শুধুমাত্র আরএমজি বিভাগের জন্য প্রযোজ্য। ডিবিএল গ্রুপের অন্যান্য সকল বিভাগ, প্রতিষ্ঠান ও ভার্টিক্যাল স্বাভাবিক নিয়মে, কোনো বিঘ্ন ছাড়াই কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে কয়েকটি গণমাধ্যমে ডিবিএল গ্রুপের কারখানা বন্ধ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। এসব খবরে গ্রুপটি থেকে ওই তথ্য জানা গেছে বলে খবরে দাবি করা হয়। খবরে আরও উল্লেখ করা হয়, পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায়ার ঘোষণায় ২৫ হাজার শ্রমিকের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপটি বর্তমানে মাসে ৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। গ্রুপটির কার্যক্রম পোশাক, বস্ত্র, টেক্সটাইল প্রিন্টিং, ওয়াশিং, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, প্যাকেজিং, সিরামিক টাইলস, ঔষধশিল্প, ড্রেজিং, খুচরা ব্যবসা থেকে ডিজিটাল রূপান্তর সেবা খাত পর্যন্ত বিস্তৃত।
ডিবিএল গ্রুপের সদস্য প্রতিষ্ঠান মতিন স্পিনিং মিলস পিএলসি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এটি একটি ব্লুচিপ কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। তালিকাভুক্তর পর থেকেই কোম্পানিটি ধারাবাহিকভাবে শেয়ারহোল্ডারদের আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছি। ওই বছর কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৪ টাকা ৭০ পয়সা।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.