আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (এউএসটিটিএএ) ‘ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার – বিয়ন্ড দ্য ক্লাসরুম’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি ক্যারিয়ার নির্দেশনামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বাস্তব প্রয়োগের দূরত্ব কমিয়ে আনাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সোমবার (৩ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. এইচ. খান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে টেক্সটাইল প্রকৌশল বিভাগের সমাপনী বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বৈশ্বিক পোশাক বাজারে নিজেদের প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক জ্ঞান, ব্যবসায়িক ধারণা, পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর্পোরেট দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
এই আয়োজনে টাইটেল স্পন্সর ছিল টেক্স হিউ লিমিটেড, কো-স্পন্সর ছিল এফসিএল এবং ইন্ডাস্ট্রি নলেজ পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল অ্যাপারেল টাইমস বিডি।
ভবিষ্যৎ প্রকৌশলীদের অনুপ্রেরণায় নেতৃত্বের বক্তব্য
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক।
তিনি বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব পোশাক শিল্পে পেশাদারিত্ব, ধারাবাহিক শিক্ষা এবং অভিযোজনক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষার্থীদের সরাসরি শিল্প খাতের উপযোগী করে তুলতে এমন সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য এউএসটিটিএএ-এর প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে শক্তিশালী পেশাদারিত্ব ও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। অ্যাকাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরিতে এউএসটিটিএএ ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানসম্মত কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বলে আমি আশা করি।”
এউএসটি-এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান বিভাগীয় প্রধান মো. ফয়জুর রহমান শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রি-রেডি করে গড়ে তুলতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে এউএসটিটিএএ-এর সাধারণ সম্পাদক এবং টেক্স হিউ ও আবমোর লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর মোর্শেদ আল আজিম বলেন, “এউএসটিটিএএ-তে আমাদের লক্ষ্য হলো—আমাদের প্রতিটি হবু অ্যালামনাই যেন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে চাকরির বাজারে প্রবেশ করে এবং শিল্প খাতে নেতৃত্ব দিতে পারে। ‘ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার’-এর মতো দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো আমাদের অ্যালামনাই কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।”
ক্লাসরুমের বাইরে ব্যবহারিক শেখা
সনাতন অ্যাকাডেমিক সেমিনারের বাইরে গিয়ে কর্মশালায় শিল্প খাতের বাস্তব কার্যক্রম এবং নতুন গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি নিয়োগকর্তাদের প্রত্যাশার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের সম্পূর্ণ ভ্যালু চেইনের বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের আরএমজি খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন, স্পিনিং, নিটিং, উইভিং, ডাইং, প্রিন্টিং ও অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং, মার্চেন্ডাইজিং ও সোর্সিং অপারেশনস, কমার্শিয়াল প্রসেস ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, কর্পোরেট যোগাযোগ ও স্টেকহোল্ডার ম্যানেজমেন্ট, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি, পেশাগত উন্নয়ন এবং অ্যাকাডেমিক শিক্ষা ও শিল্প অনুশীলনের মধ্যকার পার্থক্য।
বাস্তব ব্যবসায়িক পরিস্থিতি, কেস স্টাডি এবং ইন্টারেক্টিভ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সেশনগুলো শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও শিল্প-বান্ধব চিন্তাধারা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
বিশিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণ
কর্মশালায় শিল্প খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ও এউএসটি-এর সফল অ্যালামনাইরা বক্তব্য দেন। তারা হলেন মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার সাকিব সারওয়ার, হেড অব হিউম্যান রিসোর্সেস এম. এম. এ. ইয়াসিন, প্রজেক্ট লিড কামরুজ্জামান রিয়েল, কান্ট্রি ম্যানেজার ইমরান খান এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার গোলাম সারওয়ার অনিক।
শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ
দিনব্যাপী কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এউএসটি টেক্সটাইল সোসাইটির সহ-সভাপতি সহ-সভাপতি ফরহাদুজ্জামান নয়ন বলেন, “পদ্ধতিগত উপস্থাপনার কারণে সময় কীভাবে কেটে গেছে বুঝতেই পারিনি। এটি কোনো চিরাচরিত লেকচারের মতো মনে হয়নি, বরং একটি ব্যবহারিক মাস্টারক্লাসের মতো লেগেছে। পেশাগত জীবন শুরুর প্রাক্কালে আজকের অর্জিত এই অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য দারুণ সহায়ক হবে।”
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ বিতরণ করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক শিক্ষার্থীদের হাতে অংশগ্রহণের সনদ তুলে দেন।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
প্রথম আয়োজনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এউএসটিটিএএ ‘ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার’ উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যালামনাই, বৈশ্বিক ব্র্যান্ড, বায়িং অফিস, সোর্সিং প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হবে। এর লক্ষ্য শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রস্তুত করা।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.