যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি, হামলা হলে জ্বলবে ‘যুদ্ধের আগুন’

সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা আঞ্চলিক দেশগুলোও যুদ্ধের আগুন থেকে রেহাই পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূখণ্ড, অবকাঠামো ও সম্পদ ব্যবহার করছে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করছে। মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা পুনর্বিবেচনা করা উচিত, অন্যথায় তারা যুদ্ধের পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে।

ইরানের এই প্রতিক্রিয়া আসে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর। ওইসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পসহ বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। তবে সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযান দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে এবং তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর লক্ষ্য থাকতে পারে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী একটি বিস্তৃত পাল্টা হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতে তারা আগ্রহী। তবে সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সে ধরনের অভিযানে অনুমোদন দেয়নি।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জবাবে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের জ্বালানি স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ওমান উপকূলের কাছেও দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে পশ্চিমা সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

তবে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনার প্রস্তাব পাঠানো হয়নি, তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.