রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পৃথক দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের ভ্যাট গোয়েন্দা দল। জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৫ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুরের পিসি কালচার হাউজিং ও জয়েন্ট কোয়ার্টার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। দুটি আবাসিক ভবনে থাকা পৃথক গোডাউনে একযোগে অভিযান শুরু করেন ভ্যাট গোয়েন্দারা। সেখানে গিয়ে গোডাউন দুটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরে ভবনের দারোয়ানের সহায়তায় গোপন গোডাউন দুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে মালিককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। ভবন মালিকের সহযোগিতায় বাইরে থেকে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে গোডাউনে প্রবেশ করেন গোয়েন্দা দলের সদস্যরা। এ সময় বস্তায় ভরা বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
একটি গোডাউন থেকে প্যাট্রন ন্যানো ব্র্যান্ডের ২ লাখ ২ হাজার ২০০ শলাকা, মন্ড স্ট্রবেরি ১০ হাজার, মন্ড সিলভার ১৬ হাজার ৬০০ এবং ওরিস ন্যানো ২৬ হাজার ৪০০ শলাকা সিগারেট পাওয়া যায়। অন্য গোডাউন থেকে অরবিট, মন্ড, প্যাট্রন ও ওরিস ব্র্যান্ডের আরও ৬১ হাজার ২০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়।
এনবিআরের হিসাবে, জব্দ করা সিগারেটের ওপর মূসক, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ বাবদ সরকারের প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা দলের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুটি গোডাউনের ঠিকানা আলাদা হলেও সেগুলোর প্রকৃত মালিক একই ব্যক্তি। ডিলারশিপ ব্যবসা পরিচালনার কথা বলে তিনি গোডাউন দুটি ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে কী ধরনের পণ্য রাখা হতো, সে বিষয়ে ভবন মালিকদের ধারণা ছিল না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, দিনের বেশির ভাগ সময় গোডাউন দুটি বন্ধ থাকত। রাতের দিকে সেখানে মালামাল আনা হতো। পরে কুরিয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সেগুলো পাঠানো হতো। গোডাউনের দারোয়ানও ভেতরে কী ধরনের পণ্য রাখা হতো, তা জানতেন না বলে জানিয়েছেন।
এনবিআর জানিয়েছে, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট চোরাচালান চক্রকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে বিদেশি নকল সিগারেট সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেছে।
জব্দ করা সিগারেটগুলো অবৈধ হওয়ায় নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া বিদেশি সিগারেট আমদানি করা যায় না। পরবর্তী সময়ে আইন ও বিধি অনুসরণ করে এসব সিগারেট ধ্বংস করা হবে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, অবৈধ তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ এবং জাল স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.