জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৩৪ কোটি টাকার ঋণ আত্মসাতের মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম), রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে ফাস্ট ইসলামী সিকিউরিটি ব্যাংক পিএলসির অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আসাদুল আজাদ সাক্ষ্য দেন।
পরে কারাগারে থাকা আসামি রাশেদুল হকের পক্ষে আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ তাকে জেরা করেন। অপর আসামি নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল বেপারী জেরা পেছানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। অবশিষ্ট জেরা ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৯ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফ হোসেন জানান, এর আগে মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছিল। আজ আরও একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেবেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্যপর্ব শেষ হবে।
গত ১৯ জানুয়ারি একই আদালত এস আলম, পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। অন্য আসামিরা হলেন- এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে রয়েছেন। অন্যরা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সেদিন মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবিল হক সাক্ষ্য দেন। পরে ২২ জুন পাঁচজন এবং ৮ জুলাই আরও চারজন সাক্ষ্য দেন। এ পর্যন্ত অভিযোগপত্রভুক্ত ১৫ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ‘এ এম ট্রেডিং’-এর নামে ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করান এবং ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তা বিতরণ করা হয়। পরে ওই অর্থ এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবিল হক মামলা করেন। তদন্ত শেষে ১৬ অক্টোবর তিনি ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.