শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে সংসদ ভবনের মূল ফটকে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এরপর শিক্ষার্থীরা আড়ংয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ সেখানেও ধাওয়া দেয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আঘাত পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এর আগে তারা সায়েন্সল্যাব থেকে সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।
জানা গেছে, সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার এক পর্যায়ে সংসদ ভবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাদের প্রতিনিধিদল। সে সময় পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর সরে গিয়ে তারা আড়ংয়ের সামনে অবস্থান নিলে সেখানেও পুলিশ ধাওয়া দেয়।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, যেহেতু সংসদ চলছে। এ সময় এখানে কোন প্রকার মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ। তারপরও শিক্ষার্থীরা এখানে এসেছে। আমরা ধৈর্য দেখিয়েছি। এরপর আমাদের পুলিশের ওপর তারা ইটপাটকেল ছুঁড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করতে চেয়েছিল, আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।
এর আগে আজ শিক্ষার্থীরা প্রথমে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন, এরপর তারা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে যান এবং সেখান থেকে ফিরে আবারও সায়েন্সল্যাবে অবস্থান নেন।
সায়েন্সল্যাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন তিন দফা দাবি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনা করে ওই দিনের পরীক্ষা পুনরায় নিতে হবে। একই সঙ্গে পরদিনের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ এবং প্রশ্নপত্রের মান শিক্ষার্থীবান্ধব করার দাবি জানান তিনি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.