সংকটময় পরিস্থিতিতে রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত চার্জ মওকুফ এবং জরুরি সহায়তা চেয়ে ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন পোশাক ও শিল্প খাতের শীর্ষ নেতারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো এক যৌথ স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমইএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বন্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না। একইভাবে তৈরি পোশাকও বন্দরে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে জাহাজ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কনটেইনার ডেমারেজ ও অতিরিক্ত চার্জের বোঝা চাপানো হচ্ছে।
তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দীর্ঘ সময় উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে দেশের অর্থনীতিতে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শিল্প খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেন সংগঠনগুলোর নেতারা। জাতীয় স্বার্থে বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা এবং ব্যবসায়ীদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ কমানোর দাবি জানান তারা।
ব্যবসায়ীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম বন্দর এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও রেলপথ দ্রুত স্বাভাবিক করা, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন, পণ্য খালাসে বিলম্বজনিত কনটেইনার ডেমারেজ, পোর্ট রেট, শিপিং চার্জসহ সব ধরনের অতিরিক্ত চার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো চার্জ আরোপ না করা, দ্রুত পণ্য খালাসে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া এবং কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি পণ্য খালাসে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
এছাড়া বন্যা ও দুর্যোগজনিত কারণে এলসি, ব্যাংক ঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং বিলম্বজনিত জরিমানা মওকুফ, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পখাত পুনরুদ্ধারে বিশেষ প্রণোদনা বা সরকারি সহায়তা তহবিল গঠন এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্য খালাসে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সার্বক্ষণিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.