ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ রোমানিয়ায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার পূর্ব রোমানিয়ার গালাতি শহরের একটি বেসামরিক ১১ তলা ভবনে আঘাত হানে একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। গালাতি শহরটি রোমানিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাতে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে একজন নারী ও একজন শিশু আহত হয়েছেন। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং আহতদের অবস্থাও গুরুতর নয়।
রুশ বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র ও প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, এই হামলার জন্য রাশিয়াই দায়ী—এমন দাবি এখনো প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে রাশিয়ার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপ-প্রধান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ইউরোপীয় নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ড্রোন হামলা আরও ঘটতে পারে এবং এতে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।
২০১৪ সালের মিনস্ক চুক্তি, ক্রিমিয়ার অবস্থান এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ উত্তেজনার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। সেই যুদ্ধ এখনো চলমান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশের ভূখণ্ডে প্রথম সরাসরি ড্রোন আঘাতের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ড্রোন হামলার পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, “রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণ আমাদের সবার জন্য ঝুঁকির। ন্যাটো জোট তার প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষায় এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।”
তিনি আরও জানান, হামলার পর রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর ড্যানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.