তফসিলি ব্যাংকের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ সম্মেলন ও ক্যামলকো সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকসমূহের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং সামগ্রিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের উদ্যোগে ০৮-০৯ মে দুই দিনব্যাপী ব্যাংকসমূহের প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তা সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত সম্মেলনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তফসিলি ব্যাংকসমূহের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

বুধবার (১৩ মে) ব্যাংকটি একে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করেছে।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন মোঃ মামুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সচেতনতা, সু-শাসন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার প্রসারের ফলে যেমন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বেড়েছে, তেমনি ই-কমার্স, ট্রেড বেইজড মানিলন্ডারিং এবং সাইবার ঝুঁকির মতো নতুন ধরনের আর্থিক অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব মোকাবেলায় কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ঝুঁকি ভিত্তিক কমপ্লায়েন্স এবং সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং আরও কার্যকর করার ওপর তিনি জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্মেলনের আলোচনায় ব্যাংকিং খাতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, ঝুঁকি ভিত্তিক সুপারভিশন, সাইবার নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি আর্থিক খাতে ক্যাশ ফ্লো মনিটরিং, ফান্ড ডাইভারশন ও অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ আলোচনা হয়।

সম্মেলনে বিশেষ কী-নোট উপস্থাপন করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন।

এছাড়া ব্যাংকিং খাতে এএমএল এবং সিএফটি কমপ্লায়েন্সকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সততা, সু-শাসন, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ক পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, তফসিলি ব্যাংক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সম্মেলনের আলোচনায় বলা হয়, আর্থিক খাতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকিং খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিয়মিত মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া কাস্টমার ডিউ ডিলিজেন্স, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকরা বলেন, ব্যাংকিং খাতে সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা এবং ধারাবাহিক সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.