বিমানবন্দরে হামলার জবাবে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে সৌদি আরব

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার চাপে পড়েছে দেশটির সরকার। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানো কিংবা সীমিত সামরিক পদক্ষেপে থাকা—দুই পথেই সৌদি আরবের সামনে বড় ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করে সৌদি আরব। তবে বিদ্রোহীরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

স্থলযুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি

হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন সামরিক অভিযান চালিয়েও তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পারেনি সৌদি আরব। বর্তমানে গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং আরও এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।

সৌদি রাজনীতি বিশ্লেষক আলি শিহাবি সিএনএনকে বলেন, হুতিদের হুমকি স্থায়ীভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর স্থলযুদ্ধের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। সৌদি আরব তাদের আকাশপথে সহায়তা দিচ্ছে।

নিজেদের বিপুলসংখ্যক সেনা ইয়েমেনে পাঠালে সৌদি আরব দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এতে দেশটিকে বিনিয়োগবান্ধব ও আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়েছে হুতিরা

ইরানের সহায়তায় হুতিরা এখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত হামলাপদ্ধতির সক্ষমতা অর্জন করেছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর এক মুখপাত্রের দাবি, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুতগতির এবং তাপ শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হতে পারে। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

হুতিদের অস্ত্র তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনভিত্তিক একটি গোষ্ঠী তাদের ক্লড প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়তা নিয়েছিল। তবে গোষ্ঠীটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব

হুতিদের মোকাবিলায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তান সৌদি আরবকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তুরস্কও সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বিমান হামলায় অংশ না নিয়ে গোয়েন্দা সহায়তার জন্য ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুই দফা কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প তখন সরাসরি হস্তক্ষেপে রাজি হননি।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় একজন মার্কিন নাগরিকও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। হামলার পর ট্রাম্প বলেন, ঘটনাটি ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে হামলায় যোগ দেবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যোগ দিতে পারি।’

উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তুলনামূলক কম ব্যয়ের ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.