চলছে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগণনা, এগিয়ে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রাথমিক ভোটগণনায় এগিয়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। তবে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টির সঙ্গে ব্যবধান থাকলেও চূড়ান্ত ফলের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনার পর আসনভিত্তিক পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি আসন এবং বিরোধী জোট ৫০টি আসন পেতে পারে। আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জন্য ১৫টি আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। ফলে কোনো জোটই এখন পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার অবস্থানে নেই।

প্রাথমিক ভোটের হিসাবে লিকুদ পার্টি এগিয়ে থাকলেও নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ছোট দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরই আসনসংখ্যা ও সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে।

ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি কোনো একক প্রার্থীকে নয়, রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। নির্বাচনের পর দলগুলো পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে জোট গঠনের আলোচনা চালায়। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একক দলের বদলে জোট সরকারের প্রচলন রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর এটিই দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ভোটারদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ভূমিকা

প্রাথমিক আসন পূর্বাভাসে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা জটিল। নেতানিয়াহু ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের পক্ষেও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বাধা রয়েছে।

আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা শেষ পর্যন্ত কত হবে এবং তারা সরকার গঠনের আলোচনায় কী ভূমিকা রাখবে, তা নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফল ও দলগুলোর অবস্থানের ওপর।

চূড়ান্ত ফলের পর শুরু হবে জোট আলোচনা

ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট এমন একজন দলীয় নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, যাঁর পার্লামেন্টে আস্থা অর্জনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মনোনীত নেতাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে হবে।

বর্তমান ভোটের চিত্রে লিকুদ পার্টি এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর জোট আলোচনা এবং ছোট দলগুলোর অবস্থানই পরবর্তী সরকারের রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.