পূজায় নিরাপত্তার চিন্তা থাকবে না, এমন বাংলাদেশ চাই: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন। পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না—এমন পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করাই তাঁদের প্রত্যাশা। এবারের দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তি, সম্প্রীতি ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে উদযাপন করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, পূজা এলেই নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। মানুষের মধ্যে একধরনের আশঙ্কা কাজ করে। এই আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এনসিপি সব সময় দুর্গাপূজায় অংশ নিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার প্রয়োজন হলে দলটি সহযোগিতা করেছে। ইতোমধ্যে সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের পাশে থাকবে এনসিপি।

ধর্মীয় পরিচয়ে বৈষম্য নয়

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তাঁরা একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চান, যেখানে ধর্মীয় কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। প্রত্যেক ধর্মের ও প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ সমান নাগরিক মর্যাদা ভোগ করবেন।

তিনি বলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুসহ সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সুসম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোথাও বৈষম্যের ঘটনা নজরে এলে বা এ বিষয়ে তথ্য পেলে এনসিপি প্রতিবাদ জানাবে। সংসদে ও রাজপথে এ ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলা হবে। কারণ, বিষয়টি দলের মূল দর্শনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পূজা কিংবা বিভিন্ন সময়ে ছোট ঘটনাকে বড় করে দেখিয়ে বিশেষত বাংলাদেশের প্রতিবেশী একটি দেশে অপপ্রচার চালানো হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন শক্তি পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায় এবং দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চায়। এ ধরনের অপচেষ্টা যেন সফল না হয়, সে জন্য সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অখণ্ডতার সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা গেলে জাতীয় ঐক্যও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং যেকোনো আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন।

দুর্গোৎসবে সহযোগিতার আশ্বাস এনসিপির

এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা এনসিপির কার্যালয়ে আসায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ সারা দেশে দলের নেতাকর্মীরা দুর্গাপূজার আয়োজনে অংশ নেবেন এবং নিজেদের অবস্থান থেকে সহযোগিতা করবেন।

এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিমন্ত্রণপত্র এনসিপির আহ্বায়কের কাছে হস্তান্তর করেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ সংগঠনগুলোর অন্যান্য নেতারা।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.