যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ইউক্রেন। অন্যদিকে, বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, পুতিন অবিলম্বে বিশ্ববাজারে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। নভেম্বর মাসে আরও ৫ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে আরও ডিজেল পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত কমবে। তবে জ্বালানি বিশ্লেষক ড্যান পিকারিং মনে করেন, এই সরবরাহ বিশ্ববাজারে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না।
এর আগে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি জ্বালানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জুলাইয়ের শুরুতে ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে মস্কো। এতে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল ডিজেলের সরবরাহ কমে যায়। গত মাসে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়।
রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর মতে, জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ রাশিয়াকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়াকে ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া শক্তিশালী মিত্রদের দুর্বল সিদ্ধান্ত। এতে যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার হাতে আরও অর্থ আসবে এবং ইউক্রেনের মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।
ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলাও অব্যাহত রেখেছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের একটি প্রতিনিধি দল যখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ফ্লোরিডায় অবস্থান করছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প-পুতিনের এই সমঝোতা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কর্মকর্তারাও রাশিয়া প্রতিশ্রুত পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কর্মকর্তা রিচার্ড নেপিউ বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে একই নীতি কীভাবে কার্যকর রাখা হবে, সেই প্রশ্নও ওঠে।
এদিকে, শুক্রবার লেনদেন শেষে ডিজেল ফিউচারসের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। তবে ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রিউ মনে করেন, রাশিয়া ডিজেল সরবরাহ করলেও তা বাজারে সাময়িক স্বস্তি দেবে, স্থায়ী সমাধান হবে না।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ট্রাম্পকে ডিজেল সরবরাহের বিনিময়ে পুতিন ইউক্রেনের রুশ শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধের প্রত্যাশা করতে পারেন। তবে ইউক্রেন এতে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.