বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নানা বিকল্প সুযোগ তৈরি ও বাজার বহুমুখীকরণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ বাজারবহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি চালু করার ব্যাপারে সিএসইকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। চট্টগ্রামে সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে ডাইভারসিফিকেশন ফর রেজিলিয়েন্সঃ দি রোল অফ কমোডিটি ডেরিভেটিভস ইন এ মডার্ন পোর্টফলিও’ শিরোনামের এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমিশনের চেয়ারম্যন মাসুদ খান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসির প্রধান কাজ হচ্ছে ফেয়ারলি লেনদেন নিশ্চিত করা, মেনিপুলেশন হতে না দেয়া এবং ইনভেস্টরদের সুরক্ষা প্রদান করা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইনভেস্টরদের সুরক্ষা করাটা খুব জরুরী কারণ এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ ভাগ বিনিয়োগকারী হচ্ছেন রিটেইল/ইন্ডিভিজুয়াল ইনভেস্টর, যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতে সেটা হচ্ছে ৩৩ ভাগ , মালয়েশিয়াতে ১৭ ভাগ। শেয়ারের যথাযথ মূল্যায়ন নিরুপন করে শেয়ার মেনেজ করার পদ্ধতি যে একটি বিজ্ঞান, সেটা বিনিয়োগকারীদের খুব কম অংশই জানেন। এই কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পরে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার স্বার্থে অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমাদের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম কাজ ছিল ইনভেস্টরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সেজন্য সারভিলিয়েন্স সিস্টেমের উন্নয়ন, ডি রেগুলেশন, সেলফ রেগুলেশনে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন রেগুলেটর ও ফেসিলেটর হিসেবে পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বাজার উন্নয়নের কাজকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কমিশন মার্কেট ক্যপিটালাইজেশন বাড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, এটি হলে বাজারে লেনদেনও অনেক বেড়ে যাবে। এরই ধারাবাহিকতায় আইপিও ও ডাইরেক্ট লিস্টিং-এর মাধ্যমে দেশি, বহুজাতিক, বড় মূলধনি এরকম কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বন্ধ থাকা ডাইরেক্ট লিস্টিং উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাইব্রিড পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এসব পরিবর্তনের ফলে আমরা আশা করছি যথাযথ প্রাইস ডিসকভারি হবে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে এবং পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত নতুন কোম্পানিগুলোরও যথাযথ মূল্য নিরূপণ হবে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মার্কেট ডেপথ বাড়ানোর জন্যে কর্পোরেট বন্ড লিস্টিংকেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিচ্ছি এবং মার্কেট ডাইভারসিফিকেশনের জন্য নতুন প্রোডাক্টসমূহ ( ইটিএফ-এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড , আরইআইটি- রিয়েল ষ্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাষ্ট) আনার কাজ খুব গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নিচ্ছি।
সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে সিএসইর পরিচালক প্রফেসর ড মোঃ সাইফুল ইসলাম, ড. মাহমুদ হাসান, এম জুলফিকার হোসেইন, নাজনিন সুলতানা, এফসিএ, ফরিদা ইয়াসমিন, মেজর (অব:) এমদাদুল ইসলাম, মোঃ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সিএসইর ট্রেকের সম্মানিত প্রতিনিধিগন এবং বিনিয়োগকারীগণ সে সময় উপস্থিত ছিলেন । এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ।
স্বাগত বক্তব্যে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য হলো গভরনেন্স এবং সিস্টেম জনিত সমস্যা। এর ফলাফল হলো সক্রিয় বিও সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিবেশী দেশসহ সারা বিশ্বে যেখানে প্রতিনিয়ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে সেখানে আমাদের মার্কেটে উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে বা ডিগ্রোথ হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে নতুন কমিশন গঠিত হওয়ার পর বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের এবং সিস্টেমেটিক সংকট উত্তরণের জন্য যে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন তাতে আশা করি বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
সিএসই সব সময় নতুন পণ্য ও সেবা চালুকে অগ্রধিকার দিয়ে থাকে। এরই একটি হচ্ছে, ডেরিভেটিভস মার্কেট ডেভেলপমেন্ট। ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর জন্য আইনি এবং টেকনিক্যাল কাঠামো তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শেষ, এখন চলছে মার্কেটের ইকসিস্টেম তৈরির কাজ।
সেমিনারে মূল নিবন্ধ উপস্থাপনা করেন সিএসইর মহাব্যবস্থাপক মোঃ মর্তুজা আলম। আলোচনা সেশন পরিচালনা করেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ এবং এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শামসুল ইসলাম, এফসিএ, চেয়ারম্যান, বি রিচ লিমিটেড , খন্দকার সাফফাত রেজা, সিইও এন্ড ডিরেক্টর, লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ পিএলসি এবং মোহাম্মাদ মেহেদি হাসান, সিএফএ, চিফ রেগুলেটরি অফিসার ,সিএসই ।
সমাপনি বক্তব্যে সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কমিশন এক্সপ্রেস পদ্ধতিতে যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তাতে পুঁজিবাজারের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন খুব দ্রুতই বাড়বে এবং তা জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে আশা করা যায় । একই সাথে রেজিলিয়েন্সের জন্য ইনভেস্টরদের সুযোগও বাড়বে। আবার রিয়েল ষ্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাষ্ট কাজ শুরু করলে নতুন ফান্ড আসবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.