বেসরকারি খাতের কোম্পানির জন্য ফের খুলেছে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে একটি আদেশ জারি করেছে। এক দশকেরও বেশি সময় পর এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র অনুসারে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর অনুরোধে নিষেধাজ্ঞাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট আলোচিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল বিএসইসি।
২০০৬ সালে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ বাড়াতে সরাসরি তালিকাভুক্তির বিধি প্রণয়ন করা হয়। ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় এক ডজন কোম্পানি এই আইনের আওতায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ সময়ে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল) সহ বেসরকারি খাতের কিছু কোম্পানির সুযোগের অপব্যাহার করে কারসাজির মাধ্যমে উচ্চ দামে শেয়ার বিক্রি করার অভিযোগ উঠলে সরকার ২০১৫ সালে বেসরকারি খাতের জন্য সুযোগটি বন্ধ করে দেয়।
চলতি বছর মাসুদ খানের নেতৃত্বে নতুন কমিশন বিএসইসির দায়িত্ব নেওয়ার পর আবার সরাসরি তালিকাভুক্তি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশোধন করা হয় সংশ্লিষ্ট বিধিমালা। এ বিধিমালার আওতায় নিচে উল্লেখিত কোম্পানিগুলো এই সুবিধার আওতায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।
সরাসরি তালিকাভুক্তির যোগ্য ৭ শ্রেণির কোম্পানি ও তাদের শর্তাবলি:
• সরকারি কোম্পানি: সরকারের শতভাগ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ (৫০%-এর বেশি) মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এছাড়া যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০% প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারের হাতে থাকে, তারাও এই সুবিধার আওতাভুক্ত।
• টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনুমোদিত এবং কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন রয়েছে এমন টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো বা সেবা প্রদানকারী কোম্পানি।
• আর্থিক প্রতিষ্ঠান: কমপক্ষে ৩ বছর সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন ব্যাংক, বিমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
• বহুজাতিক ও বিদেশি কোম্পানি: বাংলাদেশে নিবন্ধিত এবং সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছে এমন বহুজাতিক বা বিদেশি বিনিয়োগপুষ্ট প্রতিষ্ঠান।
• বৃহৎ বেসরকারি কোম্পানি: পুঁজিবাজারে আইপিও ছাড়া সরাসরি আসতে পারবে এমন সাধারণ বেসরকারি কোম্পানি, যাদের মোট সম্পদ বা বার্ষিক লেনদেনের (টার্নওভার) পরিমাণ ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি।
• বাজার অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান: বিএসইসি কর্তৃক নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপজিটরি (সিডিবিএল) এবং সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল)-এর মতো বাজার মধ্যস্থতাকারী অবকাঠামোগত প্রতিষ্ঠান।
• সংবিধিবদ্ধ সংস্থা: সরকারের বিশেষ আইন বা অধ্যাদেশের অধীনে গঠিত কোনো বাণিজ্যিক বা বিধিবদ্ধ সংস্থা।
উল্লেখ, বর্তমানে শুধু প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। এই পদ্ধতিতে বাজারে নতুন শেয়ার বিক্রি করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে সরাসরি তালিকাভুক্তি পদ্ধতিতে কোম্পানির উদ্যোক্তা-শেয়ারহোল্ডারদের ধারণকৃত শেয়ার বিক্রি করে তালিকাভুক্ত হওয়া যায়। কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর প্রয়োজন না হলে ওই কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসতে আগ্রহী হয় না। কারণ তাতে নতুন শেয়ার ইস্যু করতে হয় বলে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়, তাতে কমে যায় শেয়ার প্রতি আয় ও লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা। সরাসরি তালিকাভুক্তি পদ্ধতিতে নতুন শেয়ার ইস্যু করতে হয় না বলে পরিশোধিত মূলধন ও শেয়ার সঙখ্যা একই থাকে। উদ্যোক্তারা তাদের ধারণকৃত শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করে ওই অর্থ অন্য কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে পারেন।
দেশে বেসরকারি খাতের অনেক বড় ও লাভজনক কোম্পানি পুঁজিবাজারের বাইরে রয়ে গেছে। এছাড়া বিদেশি মালিকানার বেশিরভাগ কোম্পানিও বাজারের বাইরে। এদেরকে বাজারে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহী করার জন্য বিদ্যমান আইপিও পদ্ধতির পাশাপাশি সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে বর্তমান কমিশন।
এদিকে সরাসরি তালিকাভুক্তিতে বর্তমান কমিশনের অবস্থানের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু কোম্পানি বাজারে আসার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এবারও যাতে কোনো অনিয়ম বা সুযোগের অপব্যবহার না হয় সে দিকে কঠোর মনোযোগ দিতে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.