বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত: কিশোরের জামিন নামঞ্জুর

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার আজান আলী শরীফের জামিন নাকচ করেছেন আদালত।

রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এই আদেশ দেন।

বিচারক বলেন, ‘এ ঘটনায় সে দ্রুততম সময়ে বের হয়ে গেছে সমাজের জন্য নেগেটিভ ম্যাসেজ যাবে। আর শিশুদের জন্য এটা পজিটিভ ম্যাসেজ হবে।’

কিশোরের জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন মামুন।

নথি থেকে জানা গেছে, নির্মাণ শ্রমিক মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহণ আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, আসামি আকাশ মারক বেপরোয়াভাবে প্রাইভেট কার চালিয়ে তার ভাইকে গাড়িচাপা দিয়ে গুরুতর আহত করে মৃত্যু ঘটায়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসামি পক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন জানিয়েছিলেন, ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং আজকের জামিন শুনানির সময় আদালতে আপসনামাটি জমা দেওয়া হবে।

সেদিন গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরেফিন ইসলাম ওই কিশোরকে আদালতে হাজির করে আটক রাখার আবেদন জানালে আদালত তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থল থেকে আটক হওয়া সত্ত্বেও মূল মামলায় ওই কিশোরের নাম ছিল না। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ২৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করে।

নিহতের বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলামের করা ওই মামলায় ৪৪ বছর বয়সী আকাশ মারককে গাড়িচালক হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আকাশ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে ২৪ বছর বয়সী মেহেদী হাসান মীমকে চাপা দেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ১ নম্বর রোডের ফুটপাতে বসেছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী, তখন গাড়িটি দ্রুতগতিতে ফুটপাতে উঠে তাকে আঘাত করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনাদাড়া গ্রামের বাসিন্দা মেহেদীকে স্থানীয়রা গাড়ির নিচ থেকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও-লেভেলের শিক্ষার্থী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই কিশোর চালকের আসন থেকে বের হয়ে আসছে।

ফুটেজে দেখা যায়, গাড়িটি মেহেদীকে আঘাত করার পর একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এরপর দুজন ব্যক্তি গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। ওই কিশোর ডান দিক থেকে বের হয়, যেখানে চালকের আসনটি অবস্থিত। শার্ট পরিহিত মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি যাত্রীর আসন থেকে বের হন। মানুষ জড়ো হলে তারা দুজনেই গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে কিশোরটিকে সেখান থেকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে এ ঘটনার আপসনামায় উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনার সময় আকাশ মারক গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং ওই কিশোর গাড়ির ভেতরে ছিল।

নথিতে লেখা ছিল, ওই কিশোরের পরিবার নিহতের দাফন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য ১ লাখ টাকা এবং তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাতে আরও ৮ লাখ টাকা নগদ দিয়েছে।

আইনজীবী আলমগীর এর আগে জানিয়েছিলেন, নিহতের পরিবার আত্মীয়স্বজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে কিশোরের পরিবারের কাছ থেকে মোট ৯ লাখ টাকা নিয়েছে এবং পরে আপসনামা করেছে। তবে আদালতে দাখিল করা পুলিশের ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

এতে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, ঘটনার পরপর ওই কিশোর, যাকে রিপোর্টে ‘আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, সে গাড়ির ডান দিকে চালকের দরজা খুলে বেরিয়ে আসছে।

ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে বলা হয়েছে, তদন্তকালে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে, যা ঘটনার সঙ্গে কিশোরের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.