রিং রোড প্রকল্পে গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

ঢাকার যানজট কমাতে ইনার সার্কুলার রিং রোডের বিভিন্ন অংশে কাজ চলছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গাবতলী থেকে বাবুবাজার এবং পোস্তগোলা থেকে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক। জুলাইয়ের এক পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়েছিল, এই অংশের প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় নির্মাণকাজ চলছিল।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর ঢাকা এলিভেটেড ইনার সার্কুলার রিং রোডের অ্যালাইনমেন্টের মোট দৈর্ঘ্য ৮৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ২৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার এলিভেটেড অংশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

রিং রোড চালু হলে দূরপাল্লার অনেক যানবাহনকে ঢাকার ভেতরের প্রধান সড়ক ব্যবহার করতে হবে না। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী যানবাহনের চাপ রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে নগরীর যানজট ও সড়কের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

রোববারের সভায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত চিহ্নিত ও দূর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে বলেন। একই সঙ্গে কাজ শেষ করার জন্য বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ এবং দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

এদিকে রিং রোডের বিভিন্ন অংশে জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গাবতলী-পোস্তগোলা করিডোরের একটি ১২ কিলোমিটার অংশের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মূলত সরকারের লক্ষ্য হলো রিং রোডের কাজ দ্রুত শেষ করে ঢাকার ভেতরের সড়কে দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ কমানো এবং রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে বিকল্প একটি সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.