চাঁদপুরের হাইমচরে চার বছরের শিশু মারিয়ামকে রাসেলস ভাইপার সাপে কামড়ানোর পর মেয়েকে কোলে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান বাবা মনির হোসেন। সঙ্গে ছিল কামড় দেওয়া সাপটিও। দ্রুত চিকিৎসার জন্য শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি সাপটি একটি প্লাস্টিকের বোতলে বন্দি করে নিয়ে যান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির আশপাশে খেলতে গিয়ে রাসেলস ভাইপারের কামড়ের শিকার হয় শিশু মারিয়াম। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার বাবা মনির হোসেন দ্রুত সাপটি শনাক্ত করেন। পরে মেয়েকে কোলে নিয়ে এবং সাপটিকে বোতলে ভরে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। চিকিৎসক আসিবুল হাসিব জানান, সাপে কামড়ানোর পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসায় শিশুটির চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়েছে। সঙ্গে সাপটি থাকায় সাপের প্রজাতি শনাক্ত করতেও সুবিধা হয়েছে।
তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, সাপে কামড়ানোর পর সাপ ধরতে গিয়ে কেউ যেন নিজের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেন। সাপটি নিরাপদে শনাক্ত করা সম্ভব হলে চিকিৎসকদের জানানো যেতে পারে। কিন্তু সাপ ধরতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
শিশুটির বাবা মনির হোসেন জানান, সাপে কামড়ানোর পর কোনো ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে তিনি সরাসরি হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ায় মেয়ের অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালে এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। এ সময় বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং শিশুদের চলাফেরায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
চিকিৎসকেরা বলেন, সাপে কামড়ালে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অযথা হাঁটানো, কামড়ের স্থান কাটা, মুখ দিয়ে বিষ চোষার চেষ্টা কিংবা কোনো ধরনের লোকজ চিকিৎসা করা যাবে না।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.