চাঁদা দাবির মামলায় কারাগারে যুবলীগ নেতা সুফি সাগর

চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের বনানী থানার সাংগঠনিক সম্পাদক সুফি সাগর শামসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২৩ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তার জামিন বাতিল করে এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট ডিবি পুলিশ সুফি সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পান। জামিনে থাকার সময় আবারও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ ওঠার পর তার জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সুফি সাগরের বিরুদ্ধে হামদর্দ ল্যাবরেটরীজের বাংলাদেশ কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ জুন ও ৩০ জুন হামদর্দের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া, সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং ভয়ভীতি দেখানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ চাঁদাবাজির অভিযোগে পল্টন এলাকা থেকে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল সুফি সাগরকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় তার কাছ থেকে একাধিক ভিজিটিং কার্ড ও কথিত ভুয়া ডক্টরেট সনদ উদ্ধারের দাবি করে ডিবি। তদন্তকারীদের ভাষ্য, মানবাধিকারকর্মী ও একটি কথিত মানবাধিকার সংগঠনের উপদেষ্টা পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন।

ডিবির অভিযোগ, ‘আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠনের আড়ালে একটি চক্র পরিচালনা করা হতো। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরকারি দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর পর অর্থ দাবি করা এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে মানবপাচারের একটি মামলার কথাও তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কথিত ভুয়া আমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সুফি সাগর শামসের নাম ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সুফি সাগরের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সবগুলোই তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি ও মামলার অভিযোগ; আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.