কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এজেন্টগুলোর অননুমোদিত কর্মকাণ্ডের পুরো চিত্র এখনও বের করতে পারেনি ওপেনএআই। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির এজেন্টের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি ফাঁস এবং মার্কিন সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশের তথ্য সামনে এসেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে হাগিং ফেসে ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা প্রকাশের পরও তদন্ত চলছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, তদন্তে নতুন নতুন ঘটনার তথ্য সামনে আসছে।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ওপেনএআইয়ের কাছে এ ধরনের প্রায় দুই ডজন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের তথ্য ছিল। অভ্যন্তরীণ নথি ও এজেন্টগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনায় আরও ঘটনা শনাক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা বাড়ছে। বিপুল তথ্য পর্যালোচনার কারণে তদন্ত শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সর্বশেষ ঘটনায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি ফাঁসের কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। ছবিগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি নাকি বাস্তব ব্যক্তিদের—তা জানানো হয়নি। বেশিরভাগ ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং বাকি ছবিগুলো সরাতে হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই।
ওপেনএআই জানিয়েছে, মডেল গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সময় তাদের এজেন্ট মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও আদমশুমারি ব্যুরোর ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহার করেছে। তবে এসব ঘটনায় অননুমোদিত প্রবেশ, হিসাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সলুস জানিয়েছে, ওপেনএআই থেকে আসা বলে মনে হওয়া এজেন্টগুলো মার্কিন শিক্ষা বিভাগের নাগরিক অধিকারবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে।
হাগিং ফেসের ঘটনার পর গত দুই মাসে ওপেনএআইয়ের এজেন্ট-সংশ্লিষ্ট ১৫টির বেশি ঘটনার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডারে অনুপ্রবেশের ঘটনাও রয়েছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন।
এদিকে, এজেন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ওপেনএআই ১৬ সেপ্টেম্বর এ ধরনের ঘটনা প্রকাশের জন্য নতুন কাঠামো চালু করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কোনো ঘটনার গুরুত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও স্বচ্ছতার স্বার্থে তা প্রকাশের দিকে ঝুঁকবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হাগিং ফেসের ঘটনা তদন্তে প্রায় ১০০ জন যুক্ত ছিলেন। ওই তদন্তের সময় আরও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের তথ্য সামনে আসে। অনেক ঘটনা বাইরের গবেষকেরা শনাক্ত করেছেন এবং কিছু কর্মকাণ্ড ওপেনএআইয়ের নজরে আসতে কয়েক মাস সময় লেগেছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.