৫ বছরে টিসিবির ভর্তুকি শূন্যের কোঠায় নামানো সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

আগামী ৫ বছরের মধ্যে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ভর্তুকি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে টিসিবির নানা উদ্যোগ ও ডিজিটাল রূপান্তরের কারণে গত বছরের তুলনায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টিসিবির তালিকা থেকে ৫৯ লাখ অযোগ্য উপকারভোগীকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় টিসিবি ডিজিটাল ডেটাবেস, সুরক্ষিত ডিজিটাল টিসিবি কার্ড, অনলাইন ডিলার ব্যবস্থাপনা, অনলাইন ডিলার পেমেন্ট সংগ্রহ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর রিয়েল টাইম মনিটরিং ও যোগাযোগ কেন্দ্র, অল ইন ওয়ান পিওএস এবং উপকারী মোবাইল অ্যাপের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা গড়ে তুলেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে দেশব্যাপী এত বড় পরিসরের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখন আর ঐচ্ছিক নয়—অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, টিসিবির এই ডিজিটাল রূপান্তর তিনটি বিষয়কে সব সময় গুরুত্ব দেবে। সেগুলো হলো উপকারভোগীর সুবিধা, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা।

মুক্তাদির বলেন, ‘এখানে সরবরাহ শৃঙ্খলটা এখনো মসৃণ হয় নাই। বিভিন্ন কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলের মধ্যে বড় আকারের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা যায় নাই। দেশের কোনো এক জায়গায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য যখন খুচরা বাজারে আসে ২০০-২৫০ কিলোমিটার দূরে; সিটি করপোরেশন অথবা রাজধানীতে, অনেক সময় দেখা যায় যে উৎপাদন পর্যায়ের মূল্য আর খুচরা বিক্রয় পর্যায়ের মূল্যের মধ্যে ব্যবধানটা গ্রহণযোগ্য হয় না।’

তিনি বলেন, ‘১৮-২০ কোটি মানুষের দেশে মৌসুমি ঘাটতি হোক অথবা কোনো কারণেই হোক, হঠাৎ করে কোনো এক সময় পাঁচ-সাত দিন বা ১০-১৫ দিনের জন্য একটা পণ্যের শূন্যতা তৈরি হতে পারে না। বাজারের মধ্যে পূর্ণতা না থাকলেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুট-ঝামেলা তৈরি হয়।’

‘এই দেশ এখনো একটা সংগ্রামরত দেশ। আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার উপরে ওঠার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করছেন। ১৮-২০ কোটি মানুষের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো দারিদ্র্যসীমায় অথবা দারিদ্র্যসীমার নিচে আছেন। একটা অংশ অতি দারিদ্র্যসীমার ভেতরে আছেন।’

‘সে রকম একটা দেশে সরকারি সহায়তাপুষ্ট একটা প্রতিষ্ঠান যখন ভর্তুকি মূল্যে কতগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মানুষের কাছে নিয়ে যায়, সেই প্রতিষ্ঠানের অপরিহার্যতা, গুরুত্ব আর নতুন করে ব্যাখ্যার দরকার নাই। টিসিবি এই বাস্তবতা বিবেচনায় ধারাবাহিক ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম গ্রহণ করেছে,’ যোগ করেন তিনি।

মুক্তাদির বলেন, উপকারী মোবাইল অ্যাপ চালুর ফলে বিদ্যমান টিসিবি কার্ডের পাশাপাশি উপকারভোগীরা একটি অতিরিক্ত নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। উপকারভোগীর জন্য স্বীকৃত ডিজিটালি স্বাক্ষরিত ও সুরক্ষিত কিউআর কোড সংযুক্ত ডিজিটাল চালান যাচাই করে তার পরিচয়, প্রাপ্যতা ও অনুমোদিত পণ্য গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফলে কোনো কারণে টিসিবির কার্ডটি হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলেও একজন প্রকৃত উপকারভোগী তার নির্ধারিত পণ্য গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন না।

টিসিবির ডিলার নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসংস্থানের অভাব আছে, এটা বাস্তবতা। আয়ের পর্যাপ্ত সুযোগের স্বল্পতা আছে, এটিও বাস্তবতা। এখন সব আগ্রহী প্রার্থীকেই টিসিবির ডিলার বানিয়ে দেওয়া সম্ভব না। কারণ সংখ্যাটা নির্ধারিত। কোনো জায়গায় যদি ১০ জন আবেদন করেন, আর সেখানে উপকারভোগী থাকেন দেড় হাজার, এই দেড় হাজার উপকারভোগীর জন্য একজনই নির্ধারিত। পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড প্রতি একজন হবেন, একটি ইউনিয়নে একজন হবেন। আগ্রহী প্রার্থী যদি থাকেন পাঁচজন, বাকি চারজনকে মেনে নিতে হবে যে এটি একজনই পাবেন।’

টিসিবির এক কোটি গ্রাহকের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে আছে ৮৯ লাখ। এই প্রেক্ষাপটে ইউনিট প্রতি বেশি ডিলার নিয়োগের সুযোগ নেই, যোগ করেন তিনি।

ডিজিটাল ডেটাবেজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত তথ্য অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে এই যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে।’

‘এর তাৎপর্য অনেক বড়। কারণ সরকারি ভর্তুকির টাকা জনগণের টাকা। এই সুবিধা যেন সঠিক ব্যক্তি, সঠিক পরিবার এবং প্রকৃত উপকারভোগীর কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব,’ যোগ করেন তিনি।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.