সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে ভারতে অনুষ্ঠিত গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল।
মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ. কে. এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক, জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ দলের না যাওয়া নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় কিংবা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তথা বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের যৌথ সিদ্ধান্ত ছিল না। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে তখন আসিফ নজরুল নিরাপত্তাঝুঁকির কারণ দেখিয়ে স্বাধীন কোনো পর্যবেক্ষণ ছাড়াই এককভাবে বিশ্বকাপে না যাওয়ার নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর জানান, যে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়ার ঘটনাটি ছিল ভারতের ঘরোয়া লিগের সিদ্ধান্ত। আর এটিকে আন্তর্জাতিক কোনও টুর্নামেন্টের সঙ্গে মেলানো উচিত নয়। ক্রিকেটারদের সঙ্গে সভাতেও আসিফ নজরুল শুধুমাত্র নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। যে ব্যক্তি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে ছিলেন, তিনি হচ্ছেন প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল।
প্রতিনিধি আরও জানান, ‘অবশ্যই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’
তদন্ত কমিটি মনে করে, এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা সামনে এসেছে। ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.