আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি থেকে আমদানিকারকদের সুরক্ষা দিতে হেজিং সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে যোগ্য আমদানিকারকরা পণ্যের মূল্য ঝুঁকি আগাম ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে আমদানিকারকদের ভবিষ্যৎ পণ্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার পাশাপাশি ব্যবসার সম্ভাব্য খরচ আগেভাগে নির্ধারণ করা সহজ হবে।
সহজভাবে বললে, কোনো আমদানিকারক যদি তিন মাস পর গম আমদানি করতে চান এবং এর মধ্যে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে আগেই একটি চুক্তি করতে পারবেন। এতে পরবর্তী সময়ে বাজারে গমের দাম বাড়লেও নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকৃত আমদানি দায়ের বিপরীতে বিভিন্ন ধরনের হেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে কমোডিটি ফিউচার, সোয়াপ, কমোডিটি সূচকভিত্তিক ফরোয়ার্ড চুক্তি এবং অপশন।
এর আগে পণ্যের মূল্য ঝুঁকি হেজিং করতে আমদানিকারকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হতো। নতুন নির্দেশনায় এ প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। এখন নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত মেনে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমেই এসব হেজিং লেনদেন করা যাবে।
কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, জ্বালানি, ভোজ্যতেল, ধাতু, শস্য ও সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এ সুবিধা নেওয়া যাবে। তবে কোনো আমদানিকারক তার প্রকৃত আমদানি ঝুঁকির সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হেজিং করতে পারবেন।
হেজিং সুবিধা নিতে আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ করতে হবে। অন্যদিকে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে আমদানিকারকের প্রকৃত আমদানি দায় ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি যাচাই, লেনদেনের নথি সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, হেজিংকে কোনো ধরনের জল্পনামূলক লেনদেন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামার কারণে আমদানিকারকদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমানোই এ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.