হুথিদের হামলায় বিপাকে সৌদি আরব, সামনে বড় সংঘাতের আশঙ্কা

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে পড়েছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোয় একের পর এক হামলার পাশাপাশি কৌশলগত এলাকায় হুথিদের অগ্রগতিতে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি লোহিত সাগরের কৌশলগত পেরিম দ্বীপ ও মোচা বন্দর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিজেদের প্রভাব আরও শক্ত করেছে হুথিরা। বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে পরিস্থিতির অবনতি হলে তেল পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা সংকটের পর সৌদি আরব তেল পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সম্প্রতি ড্রোন হামলায় পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রিয়াদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তেলবাজারেও নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বিপুল অর্থ ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র থাকা সত্ত্বেও ইয়েমেনে হুথিদের মোকাবিলায় কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে সৌদি বাহিনী। দীর্ঘদিনের যুদ্ধকৌশল ও ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে হুথিরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়ে দিয়েছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদের বিরুদ্ধে হামলা ও সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে।

সংঘাত বাড়লেও সরাসরি সামরিক অভিযানে যেতে আগ্রহী নয় যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি যুবরাজ একাধিকবার ওয়াশিংটনের সরাসরি হস্তক্ষেপ চাইলেও ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে সীমিত গোয়েন্দা সহায়তার মধ্যেই রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ও মার্কিন প্রত্যক্ষ সমর্থনের ঘাটতি সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। হুথিদের দাবি মেনে নেওয়া রিয়াদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখা হতে পারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সমর্থন সীমিত থাকলেও সৌদি আরব যদি নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বড় ধরনের পাল্টা সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে ইয়েমেনের সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.