ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চালানো এসব হামলায় আবাসিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত দুই মাসে ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময় রাশিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার দূরবর্তী জ্বালানি স্থাপনা ও গুদামগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দুই পক্ষই একে অপরের পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে জানান, শনিবার সকাল থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৫০০টি ড্রোন মোতায়েন করেছে। তাঁর ভাষ্য, সীমান্তে সাফল্য না পেয়ে রাশিয়া যুদ্ধকে অর্থনীতির দিকে বিস্তৃত করেছে। মানুষকে টিকে থাকতে সহায়তা করে এমন স্থাপনা ধ্বংস, ইউক্রেনের অর্থনীতিকে অচল করা এবং দেশটির প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়াই রাশিয়ার উদ্দেশ্য বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী জাপোরিজিয়া, দানিপ্রো ও ক্রিভি রিহের কয়েকটি ইস্পাত কারখানা এবং শিল্প কমপ্লেক্সে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে মস্কো-নিয়ন্ত্রিত পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তাদের তিনজন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন শহর ক্রামাতোর্স্কের সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, রুশ বাহিনী সাধারণ বেসামরিক যানবাহনেও হামলা চালিয়েছে। ৯০ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
কিয়েভের পশ্চিমে ঝিতোমির অঞ্চলের গভর্নর ভিটালি বুনেচকো জানান, জভ্যাহেল শহরের একটি মুদি দোকানে হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুটি পেট্রল পাম্প ও বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে আকাশে ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ মোলদোভা প্রায় এক ঘণ্টার জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রাখে। একই সময়ে সাতটি সীমান্ত ক্রসিংও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার সময় প্রায়ই রুশ ড্রোন মোলদোভার আকাশসীমায় প্রবেশ করায় দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.