সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার মধ্যে সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হুথিরা জানিয়েছে, শারুরাহ সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ছিল তাদের হামলার লক্ষ্য। এদিকে সংঘাতের তীব্রতায় হাজার হাজার মানুষ নতুন করে ঘরছাড়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার দাবি করেন। তবে অভিযানটি ঠিক কোন সময়ে চালানো হয়েছে, তা তিনি জানাননি। অন্যদিকে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর বলেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি মসজিদ, কয়েকটি ভবন ও যানবাহন।

এদিকে চলতি সপ্তাহে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর লোহিত সাগরের বন্দরনগর মোখা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে তিন দফা বিমান হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। জবাবে হুথিদের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরবের ‘শত্রু বিমান’ ১২৯টি হামলা চালিয়েছে।

সম্প্রতি লোহিত সাগর উপকূলের অবশিষ্ট অংশ ও কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপ দখলে নেওয়ার মাধ্যমে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে ইরানের মিত্র হুথিরা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলোতে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে বাব আল-মান্দাব প্রণালির গুরুত্বও এখন অনেক বেড়ে গেছে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলার অনুরোধ করেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। তবে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

শনিবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, সৌদি যুবরাজের পাশাপাশি হুথিরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না বলেও জানিয়েছে।

এদিকে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ৭৬ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে।

মোখা শহর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর হাজারো মানুষ এডেনে আশ্রয় নিচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ যুদ্ধ থেকে বাঁচতে প্রতিবেশী জিবুতিতে পাড়ি জমিয়েছে। এর মধ্যেই গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে সানা নগরে সম্প্রতি ২১০ জন বন্দির মুক্তি উদযাপন করেছে হুথি সমর্থকেরা।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.