উত্তরাঞ্চলে একটি বিশেষ কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার রিভলভিং পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় অংশ নিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই স্কিমের আওতায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের কৃষিকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এখন থেকে কৃষকরা এই স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদহারে অর্থায়ন নিতে পারবেন।
উৎপাদন থেকে শুরু করে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত কৃষির পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে স্কিমের আওতায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অর্থায়ন করা হবে। পর্যায়গুলো হলো—উৎপাদন ও সংরক্ষণ; পরিবহন, বিপণন ও অবকাঠামো নির্মাণ; কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ; এবং রপ্তানি।
এই স্কিমের মাধ্যমে অর্থায়নের ফলে শস্য উৎপাদন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি যন্ত্রপাতি, হিমাগার সুবিধা, গুদাম, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বীজ উৎপাদনসহ অন্যান্য কৃষিভিত্তিক শিল্পের অধীনে কৃষি অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্র সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এবং টেকসই অর্থায়ন বিভাগের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এসএমই বিজনেস সাপোর্ট প্রধান কাজী দিলরুবা আক্তার এবং এমএফআই ও এগ্রিকালচার ফাইন্যান্সের সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার লিটন কুমার বিশ্বাস।
অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন ও কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে এই স্কিমে ব্র্যাক ব্যাংকের অংশগ্রহণ উত্তরাঞ্চলজুড়ে কৃষক, গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসাগুলোকে সহায়তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এসএমই ব্যাংকিং প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, “কৃষি খাত, বিশেষত আমাদের কৃষকরা, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। ব্র্যাক ব্যাংক সবসময় তাদের স্বল্প খরচে অর্থায়নের চেষ্টা করে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পুনঃঅর্থায়ন স্কিম আমাদের কৃষি উদ্যোগগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে স্কিমের অধীনে কৃষকদের উৎপাদন কাজে অর্থায়ন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় সহজ প্রবেশাধিকার দেবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করবে।”
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.