এআই চিপের বাজারে উত্থান, টিএসএমসির মাসিক আয় ছাড়াল ৫১৪ বিলিয়ন ডলার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত চিপের ব্যাপক চাহিদায় রেকর্ড মাসিক আয় করেছে বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)। আগস্টে প্রতিষ্ঠানটির আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হিসাবে টিএসএমসি জানিয়েছে, আগস্টে তাদের আয় হয়েছে ৫১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন তাইওয়ানিজ ডলার, যা প্রায় ১৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের আগস্টের তুলনায় এ আয় ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। জুলাইয়ের তুলনায় আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ।

এ নিয়ে টানা চার মাস টিএসএমসির মাসিক আয় বাড়ল। এআই অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহৃত চিপের চাহিদা শক্তিশালী থাকায় প্রতিষ্ঠানটি এই প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।

গত জুলাইয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের সময় টিএসএমসি জানিয়েছিল, এআই-সংশ্লিষ্ট চিপের চাহিদা এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী। ওই প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৭ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টিএসএমসি ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন থেকে ৪৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে।

বিশ্বের ফাউন্ড্রি বা চুক্তিভিত্তিক চিপ উৎপাদন বাজারেও টিএসএমসির আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক ফাউন্ড্রি বাজারের ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ফাউন্ড্রির বাজার অংশীদারিত্ব ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং চীনের এসএমআইসির ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

ট্রেন্ডফোর্স জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ফাউন্ড্রির সম্মিলিত আয় প্রায় ৫৩ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ছিল রেকর্ড। এআই ও উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং প্রসেসরে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির চিপের সরবরাহ সংকটও এই আয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে পরবর্তী প্রজন্মের চিপ তৈরির প্রযুক্তি এগিয়ে নিতে চলতি সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের চিপ সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এএসএমএলের সঙ্গে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে টিএসএমসি।

টিএসএমসি জানিয়েছে, ২০৩০ সাল থেকে উন্নত নোডের ব্যাপক উৎপাদনে এএসএমএলের হাই-এনএ (High NA) প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এআই অ্যাপ্লিকেশনে আরও জটিল ট্রানজিস্টর কাঠামোর প্রয়োজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়বে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.