রোবট ও স্টেম অলিম্পিয়াডে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য

ফিবোনাচি আন্তর্জাতিক রোবট ও স্টেম অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর বাংলাদেশ জাতীয় বাছাইপর্বে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও গবেষণামুখী চিন্তার স্বাক্ষর রেখেছে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ। দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স দল একাধিক বিভাগে কৃতিত্ব অর্জন করে ইতালিতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছে।

এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশের চিফ মোতাওয়াল্লী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা ও হামদর্দ বাংলাদেশের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মনজারুল আলম, পিএইচডি, এমআইইইই। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠাতা কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে হামদর্দের পরিচালকবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প বিভাগে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘দুর্গো ২.০: সমন্বিত সীমান্ত প্রতিরক্ষা, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য সমতা’ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। বাস্তবভিত্তিক সমস্যা সমাধান, আধুনিক প্রযুক্তির সৃজনশীল প্রয়োগ এবং সামাজিক কল্যাণের সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রকল্পটি বিচারকমণ্ডলীর বিশেষ প্রশংসা অর্জন করে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স দল রোবো সকার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। ১৬২টিরও বেশি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত লাইন ফলোয়িং রোবট (এলএফআর) প্রতিযোগিতায় হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দেশি বটস’ দল চতুর্থ স্থান অর্জনের পাশাপাশি ‘অনারেবল মেনশন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে। এসব অর্জন শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল দক্ষতা, সৃজনশীল উদ্ভাবন এবং রোবোটিক্স ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনী দক্ষতা ইতোমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি পেয়েছে। তারা কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য ‘ফিক্সড-উইং ইউএভি ড্রোন’ এবং ‘লাইডার প্রযুক্তিভিত্তিক রাডার’ উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রযুক্তি ও রোবোটিক্সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের এ অর্জন দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অগ্রগতির একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া বিজয়ী দলের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, গবেষক, প্রশিক্ষক ও সহযোগীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশ, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.