ভারতের বিমান পরিবহন খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের আস্থা পেয়েছে আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড (এএএইচএল)। আদানি এন্টারপ্রাইজেসের সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি ব্ল্যাকরক, টেমাসেক, প্রেমজি ইনভেস্ট ও আলফা ওয়েভ গ্লোবালের একটি জোটের কাছ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১২ হাজার ৬৭৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহের চুক্তি করেছে। এ লেনদেনের ফলে প্রতিষ্ঠানটির মূলধনের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার।
ভারতের বিমানবন্দর অবকাঠামো খাতে এটি এ যাবৎকালের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রসঙ্গত, আদানি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে, যা লোডশেডিং কমাতে বড় অবদান রাখছে।
এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের এ অংশগ্রহণ এএএইচএলের ব্যবসায়িক পরিধি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার প্রতি বড় প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার প্রতিফলন। ভারতের বিমান পরিবহন খাত যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের একটি স্থায়ী পর্যায়ে প্রবেশের সময় এ বিনিয়োগ এসেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা তিনটি ধাপে এএএইচএলের নতুন শেয়ার গ্রহণ করবেন। চূড়ান্ত ধাপ ২০২৭ সালের জুলাই নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সব ধাপ সম্পন্ন হলে বিনিয়োগকারী জোটটি যৌথভাবে এএএইচএলের প্রায় ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ মালিকানার অধিকারী হবে।
সংগৃহীত অর্থ তিনটি প্রধান খাতে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর অবকাঠামোর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, বিমানবন্দর ঘিরে সমন্বিত ‘আদানি এয়ারপোর্ট সিটি’ গড়ে তোলার প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২২ মিলিয়ন বর্গফুটের মিশ্র ব্যবহারের উন্নয়ন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ যাত্রীকেন্দ্রিক ব্যবসার সম্প্রসারণ।
এ বিনিয়োগের মাধ্যমে বছরে প্রায় ২০ কোটি যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি এবং যাত্রী অভিজ্ঞতার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লেনদেনটি এসেছে আদানি এন্টারপ্রাইজেসের ১৯ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার কিউআইপি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই। গত জুলাইয়ে সম্পন্ন হওয়া ওই কিউআইপি ছিল কোনো অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতে করা সর্বোচ্চ কিউআইপি।
এএএইচএলের নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জিত আদানি বলেন, এই অংশীদারিত্ব আদানি এয়ারপোর্টস প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভারতের বিমান পরিবহন খাত দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম শক্তিশালী নিয়ামক। আকাশ যোগাযোগের প্রতিটি সম্প্রসারণ বাণিজ্য, পর্যটন, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়নে প্রভাব ফেলে।
আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের সিইও অরুণ বনসল বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। ভারতের প্রবৃদ্ধির সুযোগ, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শহর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতি এ উচ্চাভিলাষকে আরও শক্তিশালী করছে।
এ লেনদেনে আইনি ও আর্থিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে সিরিল আমারচাঁদ মঙ্গলদাস, এজেডবি অ্যান্ড পার্টনারস, জেএসএ অ্যাডভোকেটস, টিটিঅ্যান্ডএ অ্যাডভোকেটস, জেফারিজ ইন্ডিয়া, এসবিআই ক্যাপিটাল মার্কেটস ও আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং। প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনসহ প্রচলিত শর্ত পূরণের সাপেক্ষে লেনদেনটি চূড়ান্ত হবে।
আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস ভারতের আটটি বিমানবন্দর পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট যাত্রী চলাচলের ২৩ শতাংশেরও বেশি পরিচালনা করে এবং এর মাধ্যমে ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিমানবন্দর পরিচালনাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.