ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টিতে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা

ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও সহজ করতে সমন্বিত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে আগে আলাদা সময়ে জারি করা নির্দেশনাগুলো একত্র করে নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।

নতুন নির্দেশনাটি আগামী এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আগে জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো রহিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারটি মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক ঋণ, বিদেশি গ্যারান্টি বা জামানতের বিপরীতে বেসরকারি খাতে অর্থায়ন এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যারান্টি দেওয়ার নিয়ম।

দ্বিতীয় অংশে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণ ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিধিবিধান তুলে ধরা হয়েছে।

তৃতীয় অংশে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ গ্রহণ এবং সেই ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্যারান্টি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

তবে বিদেশি মালিকানাধীন বা বিদেশি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে চলতি বছরের ১৫ জুলাই বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা বহাল থাকবে।

নতুন সার্কুলারে বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিটের বিপরীতে দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়ন নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। ফলে বিদেশি গ্যারান্টি বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট ব্যবহার করে দেশীয় অর্থায়ন নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাবে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশি কোনো কোম্পানিকে দেওয়া চুক্তি বা কার্যাদেশের বিপরীতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও একই বিষয়ে এক বছরের জন্য নির্দেশনা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে এক বছরের জন্য সমন্বিত নির্দেশনা দেওয়া হলো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম এক জায়গায় আনার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে। বিশেষ করে বিদেশি মালিকানাধীন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশনার মাধ্যমে সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিবিধান সহজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.