নেপালের ভয়াবহ ভোটকোশী বন্যা ও পরবর্তীতে নিম্নাঞ্চলে সৃষ্ট প্লাবনে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন। দেশটির ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে নেপালভিত্তিক গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রকাশিত এনডিআরআরএমএ-এর সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত ১০১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে পুলিশের ২৭ জন সদস্যও রয়েছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট ১৫ হাজার ২২৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পুলিশ ৬১৬টি মরদেহ উদ্ধার করে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ২৩৩, পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮, গোরখায় ৪৮, পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ৪৭, ধাদিংয়ে ৪৫, নুওয়াকোটে ৪১, তানাহুনে ৩১ এবং রসিকুয়ায় ১৩ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জাতীয়ভাবে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে পৌঁছায়।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি চলাচলের পথ সুগম করতে এবং ত্রাণ কার্যক্রম সহজ করতে বন্যায় জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে।
গত বুধবার সকালে উত্তর নেপালের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আঘাত হানে এই বন্যা। এতে ভোটকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে তীব্র পানির স্রোত ও পলি-ধ্বংসাবশেষ প্রবাহিত হয়। প্রবল তোড়ে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ নানা অবকাঠামো ভেসে যায়। ফলে একাধিক এলাকার সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত আরও প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছানোর পর মরদেহের সন্ধান মেলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.