নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে নেপাল সীমান্তে বহু মানুষের মরদেহ উদ্ধারের পর দেশটির পুলিশ নিহতের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করে। খবর এএফপির
বর্তমানে শতাধিক বিদেশিসহ এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তিব্বত অংশে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ফলে দুই সীমান্ত মিলিয়ে সার্বিক প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৫৫২ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ জন।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশনের প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেন, ‘আমাদের ধারণা, অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের ব্যাপক সহায়তা প্রয়োজন। তবে আমরা দ্বিতীয় দফার বন্যা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ফিশার বলেন, ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি উপচে পড়ায় ত্রাণবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। এতে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দপ্তরের প্রধান কমল কিশোরও নতুন দুর্যোগের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, এক অর্থে দুর্যোগ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কোনো কোনো দিক থেকে এটি এখনও ঘটেই চলেছে।
একই ব্রিফিংয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ জানান, ভূমিধসে ছয়টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছেন আটজন স্বাস্থ্যকর্মী।
গত বুধবার সকালে হঠাৎ করে রাসুয়ার দিকে ধেয়ে আসে আকস্মিক ঢল। এ সময় সেখানে ত্রিশূলি এবং নারায়নি নদীর পানি বেড়ে যায়। আর ভোটকোশি নদীর পানি ফুলেফেঁপে ওঠে। পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা পানিতে যুক্ত হয় ভূমিধসের কাদামাটি, পাথর। এই বানের শক্তি এতই বেশি ছিল যে এটি তার পথে থাকা সবধরনের অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি- সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এটি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.