রংপুরে চার খুন: শেষকৃত্য সম্পন্ন, জবানবন্দিতে আসামিদের দায় স্বীকার

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও দুই সন্তান আগামী চক্রবর্তী ও আয়ুশ চক্রবর্তীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। একই ঘটনায় গ্রেফতার দুই যুবক আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহগুলো নগরীর দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে চারটি চিতায় তাদের দাহ করা হয়। স্বজনরা মুখাগ্নি করেন। দাহ শেষে চিতাভস্ম ও অস্থি সংগ্রহ করে নিয়ে যান তারা।

এর আগে শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, ছেলে আয়ুশ ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।

আদালতে জবানবন্দি দুই আসামির

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে রোববার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শুনানি শেষে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রংপুর মহানগর আদালতের ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চক্রবর্তী দুই আসামিকে জবানবন্দির জন্য আদালতে হাজির করেন। পরে বিচারক রফিকুল ইসলাম তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

পুলিশের দাবি, জবানবন্দিতে দুই যুবক হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

যেভাবে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে মাদক সেবন করছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। বিষয়টি নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষকের সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এরপর পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয়।

কমিশনার জানান, গণপতি চক্রবর্তীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে তাকে আটক করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

এরপর তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী বিষয়টি বুঝতে পেরে এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। পরে নিচতলায় গিয়ে পরিবারের আরেক সদস্য রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুশ চক্রবর্তীকেও কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

 

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পর আলামত ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। এরই মধ্যে গ্রেফতার দুই যুবকের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.