পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার জন্য প্রদেয় মার্জিন ঋণের সংশোধিত বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এখন থেকে মার্জিন ঋণের ক্ষেত্রে এই বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।
ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পি/ই রেশিওর পরিবর্তে পি/বি রেশিও’র ভিত্তিতে মার্জিন দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও সেখান থেকে সরে এসেছে কমিশন। সংশোধিত বিধিমালা অনুসারে কেবল জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে পি/বি রেশিও প্রযোজ্য হবে।
বিধি অনুসারে, গ্রাহকের ইক্যুইটি মার্জিন অর্থায়নের ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এলে মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছে প্রযোজ্য মার্জিন জমা দিতে বলবে, গ্রাহক তা না করলে বা করতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান আংশিক সিকিউরিটিজ বিক্রি করে ইক্যুইটি মার্জিন অর্থায়নের ৫০ শতাংশে উন্নীত করবে। অন্যদিকে, গ্রাহকের ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে এলে মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান কোনো নোটিস না দিয়েই প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিকিউরিটিজ বিক্রি করে মার্জিন সমন্বয় করতে পারবে। তবে আবশ্যিক বিক্রয় আদেশ দেওয়ার পরও যদি সেটি তাৎক্ষণিক কার্যকর না হয় বা বিলম্বে কার্যকর হয়, সেক্ষেত্রে অদ্ভুত ক্ষতির দায় প্রতিষ্ঠানের উপর বর্তাবে না।
নিচে সংশোধিত বিধিমালার প্রধান বিষয়গুলো উল্লেখ করা হল-
* মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ অনুপাত হবে ১:১। অর্থাৎ গ্রাহকের ইক্যুইটির চেয়ে বেশি মার্জিন দিতে পারবে না সংশ্লিষ্ট ব্রোকারহাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংক।
* মার্জিন সুবিধা কেবল এ ও বি ক্যাটাগরির শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
* মূল বোর্ডের জি, এন ও জেড ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানি এবং এসএমই বোর্ড, এটিবি বোর্ড ও ওটিসি প্ল্যাটফরমে থাকা কোনো কোম্পানির শেয়ার মার্জিনযোগ্য হবে না।
* মার্জিন নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে।
* মার্জিনযোগ্য শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য-আয় অনুপাত (পি/ই রেশিও) হবে ৪০। পিই রেশিও ৪০ এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না।
জীবনবীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পি/ই রেশিওর পরিবর্তে পি/বি রেশিও বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রেশিও হবে ৩ গুন।
* কোনো কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ঋণাত্মক হলে, ওই শেয়ারেও মার্জিন দেওয়া যাবে না।
* সর্বশেষ চার প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ইপিএসের ভিত্তিতে পি/ই রেশিও নির্ণিত হবে। (পি/ই রেশি= সংশ্লিষ্ট শেয়ারের ক্লোজিং মূল্য/ নিরীক্ষিত ইপিএস)।
* কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান তার প্রকৃত মূলধনের ৪ গুনের বেশি অর্থায়ন করতে পারবে না।
* কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান তার মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি একক সিকিউরিটিজে অর্থায়ন করতে পারবে না।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.