ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজে ঢুকতে পারবে না ‘শত্রু’ দেশের জাহাজ

হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। প্রস্তাবিত আইনে তেহরান যেসব দেশকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ মনে করে, সেসব দেশের সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের অনুমতি ছাড়া পারস্য উপসাগরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইব্রাহিম আজিজি বলেন, বিলটি পাস হলে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের অনুমোদন ছাড়া উপসাগরে প্রবেশ করতে পারবে না। তার দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করাই প্রস্তাবিত আইনের প্রধান লক্ষ্য।

এর আগে গত ৯ আগস্ট কমিটির মুখপাত্র হাসান গাশঘাভি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ দুই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বিল অনুমোদন করেছে কমিটি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘাতের অবসানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামেও। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.