৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত কলম্বিয়া, নিহত দুই শতাধিক

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চারটি প্রধান শহর ও অঞ্চলের মেয়রের কার্যালয় এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। তবে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা এখনো ১৮১ জন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, প্রকৃত প্রাণহানি ২৪০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্যালি, পেরেইরা, চোকো ও মানিজালেস অঞ্চল। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলিয়ার্দো দে লা এস্প্রিয়েল্লা।

পেরেইরার মেয়র মরিসিও সালাজার ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতিকে ‘হাজার হাজার পরিবারের জন্য এক বড় বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব এবং এই আঘাত কাটিয়ে উঠব।”

ভূমিকম্পে দেশটির অন্তত ১ হাজার ৬০০টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পুরোপুরি ধসে পড়েছে। এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নাগরিকদের উদ্যোগে পরিচালিত একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বিভিন্ন এলাকায় পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি চোকো অঞ্চলে উদ্ধারকারীদের ব্যাপক তৎপরতা চলছে। কলম্বিয়ার অন্যতম দরিদ্র ও অবহেলিত এই অঞ্চলের অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ নেই। সেখানে নৌকা, দুর্গম জঙ্গল পেরিয়ে কিংবা উড়োজাহাজে করে পৌঁছাতে হয়। এতে উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা এবং দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে সোমবার রাতেই চোকো অঞ্চলের রাজধানী কিবদো পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট এস্প্রিয়েল্লা। সেখানে তিনি বলেন, “চোকো আর কখনোই অবহেলিত ও বিস্মৃতদের ভূমি হয়ে থাকবে না।”

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.