ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৮ আগস্ট) ভোরে কিয়েভের পূর্বাঞ্চলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এ সময় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর কয়েক দিন আগেই ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছিলেন।
কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি ভবনে আগুনও লাগে। হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীর একটি ভবন ও একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা ডিএসএনএস হামলার পর কিয়েভের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে গ্যারেজ, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
এদিকে প্রথমবারের মতো সার্বিয়া সফরে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এমন সময়ে তিনি এই সফরে গেলেন, যখন রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইউক্রেনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসায় দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে জেলেনস্কি বলেছিলেন, মিত্রদের কাছ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা পেতে বিলম্বের কারণে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ বাড়ছে। তার দাবি, ইউক্রেনের হাতে আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকলে সাম্প্রতিক হামলায় অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো।
পরে জেলেনস্কি জানান, চলতি বছর মিত্রদেশগুলো থেকে ইউক্রেনে ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এর আগে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দুটি তেল শোধনাগার এবং কৃষ্ণসাগরে মস্কোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইউক্রেন।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা আরও জোরদার করেছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.