মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূতের কাছে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে তার এই প্রস্তাব পরে প্রত্যাখ্যান করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র ও লেবাননের এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসের শেষের দিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হলে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ওয়াশিংটনে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোওয়াদকে ফোন করেন।
এর কিছুদিন পর, ১ জুন ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন যে, তিনি অজ্ঞাত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের কাছ থেকে ইসরায়েলে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। ওই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গে আমার খুব ভালো কথা হয়েছে এবং তারা সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে।
তবে কূটনৈতিক সূত্রটি জানিয়েছে, ট্রাম্প হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের ওই ঘোষণা দেওয়ার আগে রাষ্ট্রদূত নাদা মোওয়াদকে ফোন করে রাগান্বিত স্বরে হিজবুল্লাহর কারও সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, এমন কোনও যোগাযোগের ব্যবস্থা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
ঘটনার পর রাষ্ট্রদূত মোওয়াদ লেবাননের প্রেসিডেন্টের বাসভবনে যোগাযোগ করে করণীয় জানতে চান। প্রেসিডেন্ট প্যালেস থেকে তাকে কোনও পদক্ষেপ না নিতে এবং ট্রাম্পের অনুরোধটি উপেক্ষা করতে বলা হয়। লেবানিজ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে এই ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রাম্প ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সরাসরি সংযোগ ঘটালে লেবাননের সর্বোচ্চ সরকারি দপ্তর রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়বে।
গত এপ্রিল থেকে লেবানন সরকার ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আন্তর্জাতিক যেকোনও আলোচনায় নিজেদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিল। ট্রাম্পের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সরাসরি যোগাযোগ হলে তাদের সেই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতো।
লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতীতে ও বর্তমান প্রশাসনের অধীনেও হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের পথ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমেরিকার সঙ্গে কোনও ধরনের সরাসরি যোগাযোগ না করার অবস্থান বহাল থাকায় সব প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যাত হয়।
এমনকি বৈরুতে সিআইএ স্টেশন থেকেও লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই একই নেতিবাচক উত্তর এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার হিজবুল্লাহকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং দলটির সঙ্গে কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যোগাযোগ না রাখার নীতি অনুসরণ করে। সূত্রের দাবি, ট্রাম্প যখন লেবাননের রাষ্ট্রদূতকে ফোন করেছিলেন, তখন বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও সে বিষয়ে কিছুই জানত না। ট্রাম্পের ঘোষণার পর মার্কিন দূতাবাস থেকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ট্রাম্প ও হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রকৃতপক্ষে এমন কোনও যোগাযোগই হয়নি।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.